ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা, আটক ব্যক্তিকে ঘিরে বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে অচলাবস্থা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১১ জুন : ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের মেঘালয়ের সাউথ গারো হিলস জেলার মহেন্দ্রগঞ্জ সংলগ্ন নন্দীর চর এলাকায় এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সীমান্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটক ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেন। এরপর প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিএসএফ তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। তবে অভিযোগ, সীমান্ত অতিক্রম করার পর বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এবং সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ব্যক্তিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে ওই ব্যক্তি অনিশ্চিত অবস্থায় আটকে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে বাংলাদেশের দিক থেকে ইট-পাটকেল ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং গোটা ঘটনার ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএসএফ কিংবা বিজিবির পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশব্যাক এবং নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে একাধিকবার দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। নন্দীর চর সীমান্তের এই ঘটনাও সেই প্রেক্ষাপটে নতুন করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের বিষয়টিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার এলাকায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়নি। এছাড়া ভৌগোলিক ও অন্যান্য জটিলতার কারণে প্রায় ১৭৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বেড়া নির্মাণ কার্যত অসম্ভব বলে জানা গেছে। এদিকে, বিগত এক মাসে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ থেকেই প্রায় ৪,৮০০ অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *