এস পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুলাই : কাছাড় জেলার কালাইন এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারীর মৃত্যু এবং দুই মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় রবিবার রাতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় কালাইন হাসপাতালের জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে শিলচর-কালাইন সড়ক অবরোধ করলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাইন বাগান রোডে দ্রুতগতিতে একটি বাইক চালিয়ে যাওয়ার সময় পিকলু মুণ্ডা ও মনোতোষ মুণ্ডা নামে দুই যুবক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাজুল ইসলাম নামে এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা দেন। সংঘর্ষ এতটাই প্রবল ছিল যে পথচারী তাজুল ইসলাম রাস্তার পাশে ছিটকে পড়েন এবং বাইকের দুই আরোহীও গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে তিনজনকেই কালাইন হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু অভিযোগ, সেই সময় হাসপাতালে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সও উপলব্ধ ছিল না। বারবার ১০৮ জরুরি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবায় যোগাযোগ করা হলেও দীর্ঘ সময় কোনও অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে পৌঁছায়নি। আহতরা প্রায় এক ঘণ্টা হাসপাতালে অপেক্ষায় থাকেন। এর মধ্যেই গুরুতর আহত পথচারী তাজুল ইসলামের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাইক আরোহী দুই যুবকের মধ্যে একজনের কান দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত পাশের একটি চা-বাগান থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। ওই অ্যাম্বুলেন্সে একজন আহতকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর আহতকে একটি ব্যক্তিগত থার গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।
এই ঘটনায় কালাইন হাসপাতালের জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি মুহূর্তে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অনুপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে হয়তো একটি প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারত। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে স্বাস্থ্য বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অন্যদিকে, তাজুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা শিলচর-কালাইন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা কমিশনার অথবা কাটিগড়া সার্কল অফিসার ঘটনাস্থলে এসে আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত তারা মৃতদেহ গ্রহণ করবেন না।
সড়ক অবরোধের জেরে দীর্ঘ সময় ধরে শিলচর-কালাইন সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চললেও ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করেছে।



