১১ আগস্ট : ২০ জুলাই দিল্লিতে পড়ুয়াদের ‘সংসদ চলো’ মিছিলে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ আরও জোরালো হলো। তথ্য জানার অধিকার (RTI) আইনে পাওয়া হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, ওই দিন অন্তত ১০ জন আন্দোলনকারী পেলেট (ছররা গুলি), শট বা প্রজেক্টাইলের আঘাত নিয়ে দিল্লির দুই সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এত দিন পর্যন্ত এই ঘটনায় পাঁচ জনের পেলেটবিদ্ধ হওয়ার কথা সামনে এসেছিল। কিন্তু RTI-থেকে প্রাপ্ত নতুন তথ্য অনুযায়ী আহতের সংখ্যা অন্তত দ্বিগুণ।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ এবং দলের জাতীয় মুখপাত্র সাকেত গোখলে এই তথ্য সামনে এনেছেন। তাঁর করা RTI-এর জবাবে দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল জানিয়েছে, ২০ জুলাই সেখানে পেলেট, শট বা প্রজেক্টাইলের আঘাত নিয়ে অন্তত ৯ জন ভর্তি হয়েছিলেন। অন্যদিকে সফদরজং হাসপাতাল জানিয়েছে, একই দিনে পেলেটের আঘাত নিয়ে আসা এক তরুণের চিকিৎসা করা হয়েছিল। ফলে দুই হাসপাতালের নথি মিলিয়ে পেলেটে আহতের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে অন্তত ১০।
লেডি হার্ডিঞ্জে ৮১ জন আহতের চিকিৎসা
RTI-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে মোট ৮১ জন আহতকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৪৬ জন ছিলেন আন্দোলনকারী এবং ৩৫ জন পুলিশকর্মী। হাসপাতালের নথিতে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীরা নিজেরাই হাসপাতালে এসেছিলেন, আর আহত পুলিশকর্মীদের তাঁদের সহকর্মী নিয়ে গিয়েছিল।
আহতদের মধ্যে ১৪ জনের মাথা ও মুখে আঘাত ছিল। পাঁচ জনের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। আরও ৩৬ জনের শরীরে কাটা-ছেঁড়া ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। এক জনের চোখ, শ্বাসযন্ত্র ও ত্বকে গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নয় জনের ক্ষেত্রে ‘pellet, shot or projectile injuries’ বা পেলেট, ছররা গুলি কিংবা প্রজেক্টাইল জাতীয় আঘাতের উল্লেখ রয়েছে।
৭ অগস্টের RTI জবাবেও সফদরজঙ্গ হাসপাতালের ২০ জুলাইয়ের ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, ওই দিন পেলেটের আঘাত নিয়ে এক জন রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। হাসপাতালের নথিতে সেটিকে ‘pellet injury – 1 case’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি যন্তর মন্তর বা তার আশপাশে আহত হওয়ার কথা জানিয়ে মোট ২৯ জন—২৫ জন পুলিশকর্মী এবং চার জন আন্দোলনকারী—হাসপাতালে এসেছিলেন বলে RTI-তে জানানো হয়েছে।
RTI-র তথ্য প্রকাশ করে সাকেত গোখলে দাবি করেছেন, এত দিন ২০ জুলাইয়ের যন্তর মন্তর বিক্ষোভে পাঁচ জনের পেলেট-আঘাতের কথা জানা গেলেও হাসপাতালের রেকর্ডে আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ১০ বলে নিশ্চিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, হাসপাতালের নথি সামনে আসায় ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
তবে এখনও সব সরকারি হাসপাতালের তথ্য হাতে আসেনি। সাকেত গোখলের RTI-র ভিত্তিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS), রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব এখনও আসেনি। ফলে ২০ জুলাইয়ের ঘটনায় পেলেট বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে আহতের মোট সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।



