১১ আগস্ট : বেঙ্গালুরুর একটি পাঁচতারা হোটেলে দুই নাবালিকা মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। সোমবার হোটেলের ঘর থেকে দুই শিশুর দেহ এবং ওই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম এসজি ইমরান। বয়স প্রায় ৪০ বছর। বেঙ্গালুরু উত্তরের নাগাওয়ার মেইন রোডের বাসিন্দা ইমরান একটি ক্যাব পরিষেবা সংস্থায় ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রবিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ তিনি তাঁর পাঁচ ও দশ বছরের দুই মেয়েকে নিয়ে ওই পাঁচতারা হোটেলে ওঠেন। সোমবার দুপুরের মধ্যে তাঁদের হোটেল ছাড়ার কথা ছিল।
তবে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ঘর থেকে কোনও সাড়া না পাওয়ায় সন্দেহ হয় হোটেল কর্মীদের। বেঙ্গালুরুর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) জিকে মিঠুন কুমার জানান, বিকেল চারটে নাগাদ ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে কর্মীরা দরজায় সাড়া পাননি। পরে ঘরে ঢুকে বিছানার উপর দুই নাবালিকার দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। ঘরের শৌচালয় থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ইমরানকে উদ্ধার করা হয়। নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। হোটেলের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ইমরান ঘটনার কারণ জানিয়েছেন। তাঁর সন্দেহ ছিল, স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এই নিয়ে দাম্পত্য জীবনে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। পুলিশকে ইমরান জানিয়েছেন, তাঁর ধারণা ছিল, এমন মায়ের কাছে তিনি মেয়েদের বড় করতে চাননি। সেই কারণেই দুই মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে অভিযোগ।
হোটেলের ঘর থেকে একটি নোটও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ এবং স্ত্রীকে প্রতারণার অভিযোগ করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় ইমরানের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও বিষয় জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



