জ্ঞানেশ-কন্যার মামলা রোস্টার ভেঙে নির্দিষ্ট বেঞ্চে? প্রধান বিচারপতিকে চিঠি আইনজীবীদের সংগঠনের

Spread the news

২৫ সেপ্টেম্বর : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা তথা নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপমের একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে নির্দিষ্ট বেঞ্চে পাঠানো নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মামলা পরিচালনায় রোস্টার (Roster) নিয়ম অমান্য করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়েছে আইনজীবীদের একটি সংগঠন ‘লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন’ (Supreme Court Roster Controversy)। পাশাপাশি, বুধবার মামলার শুনানিপর্বে ভিডিও কনফারেন্সের অডিও মিউট রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ওই সংগঠন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে গত ১৩ জুলাই থেকে যে রোস্টার চালু রয়েছে, তাতে হেবিয়াস কর্পাস এবং সতর্কতামূলক আটক সংক্রান্ত মামলাগুলি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশের নেতৃত্বাধীন প্রথম চারটি বেঞ্চে যাওয়ার কথা। উল্লেখ্য, নয়ডার শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় জ্ঞানেশ-কন্যার নাম জড়িয়ে থাকা অন্য মামলাগুলি ইতিমধ্যেই বিচারপতি নাগরত্নের বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মেধা এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের করা দুটি মামলা কেন এবং কী করে বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিং এর বেঞ্চে তালিকাভুক্ত হলো, তা নিয়েই প্রধান বিচারপতির কাছে আপত্তি জানিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠনটি।

চলতি বছরে নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভের সময় দিল্লির এক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক আকৃতিকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) আটক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলাশাসক মেধা রূপম (Medha Rupam Noida DM)। এই নির্দেশের জেরে টানা পাঁচ মাস বিচারবিভাগীয় হেফাজতে কাটাতে হয় আকৃতিকে। তবে গত ২ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি অতুল শ্রীধরন এবং বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বাতিল করার নির্দেশ দেয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর সেই রায় প্রকাশ্যে আসে, যেখানে জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করে আদালত।

হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, মেধা রূপম একটি ‘দৃষ্টান্ত স্থাপনের’ তাগিদে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে এনএসএ প্রয়োগ করতে বলেছিলেন, যা ‘উপহাসের যোগ্য’। মত প্রকাশের অধিকারে বাধা সৃষ্টি করে তিনি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছেন বলেও মন্তব্য করে আদালত। আকৃতিকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে হাই কোর্ট জানায়, ওই অর্থ জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বেতন থেকে কাটা হবে। পাশাপাশি পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে হাই কোর্ট জানায়, আমলাদের মনে রাখা উচিত তাঁরা রাজনৈতিক প্রশাসনের কাছে নয়, সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ।

এলাহাবাদ হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মেধা রূপম এবং উত্তরপ্রদেশ সরকার। বুধবার বিচারপতি শর্মা ও বিচারপতি সিংয়ের বেঞ্চ শুনানির পর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বৃহস্পতিবার সেই নির্দেশ সংশোধন করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, মেধার বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর সামগ্রিক কোনো স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র জেলাশাসকের বেতন থেকে ৫ লক্ষ টাকা কেটে নেওয়া এবং তিরস্কারের নির্দেশের ওপর আপাতত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আকৃতিকে এনএসএ-তে আটক রাখার নির্দেশ বাতিলের আদেশ বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *