২৫ সেপ্টেম্বর : বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পশ্চিম সিকিমের রিম্বি গ্রামে বড়সড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ের মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে জনবসতি এলাকায় আছড়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
টানা বৃষ্টির জেরে গ্যালশিং জেলার ইউকসোম-তাশিডিং এলাকায় এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক নির্মাণ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ দফতরের সরকারি আবাসনও রয়েছে।
তবে উদ্বেগের বিষয়, সাম্প্রতিক এই ভূমিধস কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সিকিমের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের অন্যতম প্রধান তাৎক্ষণিক কারণ অতিবৃষ্টি। মাটি ও ফাটলযুক্ত শিলার মধ্যে জল ঢুকে পড়লে ভূগর্ভে জলের চাপ বাড়ে এবং ঢালকে ধরে রাখার শক্তি কমে যায়। ফলে খাড়া পাহাড়ি এলাকায় মাটি ও পাথর নিচের দিকে সরে যেতে পারে।
সিকিম নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি পাহাড়ের ঢাল, ভূতাত্ত্বিক গঠন, জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মাটির প্রকৃতিও ভূমিধসের ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
সিকিমের হিমালয়ঘেরা ভৌগোলিক অবস্থাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত খাড়া ও দুর্গম এবং সক্রিয় ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার কারণে এখানকার শিলাস্তরও জটিল। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সিকিম হিমালয়ের বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টি ভূমিধসের অন্যতম প্রধান কারণ। অন্যদিকে, কোনও নির্দিষ্ট পাহাড়ি ঢাল কতটা ভূমিধসপ্রবণ হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে ওই এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূপ্রকৃতির ওপর।




