বরাক তরঙ্গ, ২৫ সেপ্টেম্বর : কাছাড় জেলার ভূমি ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, পুরনো ভূমি রেকর্ড ডিজিটাল করে অনলাইনে সহজলভ্য করা এবং দুধপাতিল এলাকার দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাল নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থা। এ বিষয়ে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক দিলু দাসের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি জেলা কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, জমির পাট্টা, জামাবন্দি, মিউটেশন, দাগ নম্বর ও জমির শ্রেণিবিভাগের মতো নথি সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অথচ এসব পরিষেবা পেতে অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে বারবার সরকারি দফতরে যেতে হয় এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও বিলম্বের মুখে পড়তে হয়।
কাছাড় জেলার ভূমি রেকর্ড ও সেটেলমেন্ট সংক্রান্ত অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব, দীর্ঘসূত্রিতা এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে জনমনে যে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলির সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ না তুলে নথিপত্র ও প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলি যাচাই করার আবেদন করা হয়েছে। বিশেষভাবে দুধপাতিল এলাকার পুরনো ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়ে পুরনো রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান জামাবন্দি, চিঠা, পাট্টা, দাগ-পাট্টা নম্বর, মানচিত্র ও অন্যান্য সরকারি নথি মিলিয়ে দেখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়া পুরনো ভূমি রেকর্ড দ্রুত ডিজিটাইজ করে ‘ধরিত্রী’, জামাবন্দি ও আইএলআরএমএস-এর মতো সরকারি ব্যবস্থায় অনলাইনে উপলব্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিটি আবেদনের জন্য রসিদ, আবেদন নম্বর, প্রক্রিয়াধীন অবস্থার তথ্য এবং নিষ্পত্তির বিবরণ দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ভূমি সংক্রান্ত মামলাগুলির সময়বদ্ধ পর্যালোচনা, নথির অসঙ্গতি থাকলে ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল রেকর্ড যাচাই এবং প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ে তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ প্রকাশের আবেদন জানিয়েছে সংস্থাটি।



