১২ জুন : ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতে অধিক স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উপস্থিতিতে জ্বালানি অনুসন্ধান ও উত্তোলন সংক্রান্ত একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তবর্তী ১,০০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের মজুত রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতে, এই চুক্তি অঞ্চলটির দীর্ঘদিনের অনাবিষ্কৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। চিহ্নিত এলাকাটি হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান এবং খনিজ সম্পদ উত্তোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
এই চুক্তি ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চল এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। জ্বালানি, অবকাঠামো, যোগাযোগ এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় উন্নয়নে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের ওপর কেন্দ্র সরকার ধারাবাহিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর সরকারি লক্ষ্যকেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যকে নিয়ে গঠিত ‘অষ্টলক্ষ্মী’ অঞ্চলের জন্য এটি একটি ‘নতুন যুগের সূচনা’ বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আশা প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তি অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দ্বার উন্মোচন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ ভারতের জ্বালানি অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।



