৩১ জুলাই : ভারতীয় ক্রীড়াজগতে আজ এক ঐতিহাসিক ও সোনালী দিন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে জুডোর ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সোনা জিতে নিলেন ২৩ বছর বয়সি উদীয়মান জুডোকা অস্মিতা দে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে তিনি কানাডার শক্তিশালী প্ৰতিদ্বন্দ্বী হেইদি কুয়াচকে পরাস্ত করে এই অনন্য কীর্তি স্থাপন করেন। শুধু অস্মিতাই নন, এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হর্ষ সিংও ফাইনালে সোনা জিতে দেশের ঝুলিতে আরও একটি সাফল্য এনে দেন। এর ফলে একদিনেই পরপর দুটি সোনা এল ভারতের ঘরে এবং এই টুর্নামেন্টে ভারতের মোট সোনার পদক বেড়ে দাঁড়াল পাঁচে। একই দিনে অস্মিতা ছাড়াও আরও এক জুডোকা-সহ মোট ছয়জন ক্রীড়াবিদের পদক নিশ্চিত হয়েছে।
ফাইনালের মঞ্চে ওঠার আগে অস্মিতা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে একের পর এক বাধা টপকেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি স্কটল্যান্ডের এভা এউইংকে পরাজিত করেন এবং সেমিফাইনালে স্বদেশি সুমের শ-কে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করেন।
দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়া মহকুমার অত্যন্ত সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন অস্মিতা দে। তাঁর বাবা পেশায় একজন সাইকেল মেকানিক। তীব্র আর্থিক অনটন এবং হাজারো প্রতিকূলতাকে জয় করেই তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।
প্রাথমিকভাবে অ্যাথলেটিক্সে ৮০০ মিটার দৌড় দিয়ে খেলাধুলা শুরু করলেও, ২০১৫ সালে ত্রিপুরা স্পোর্টস স্কুলে যোগ দেওয়ার পর কোচের পরামর্শে তিনি জুডোতে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করেন। এরপর জাতীয় স্কুল গেমস এবং খেলো ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফর্ম করার সুবাদে ভোপালের সাই (SAI) আঞ্চলিক কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। এখনও তিনি সেখানেই নিবিড় অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে এশিয়ান ওপেন, জুনিয়র এশিয়া কাপ এবং কমনওয়েলথ জুডোতে পদক জয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও, আজকের এই সোনা জয় তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় এবং উজ্জ্বলতম মুহূর্ত।



