বরাক তরঙ্গ, ৩১ জুলাই : টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের জেরে ডিমা হাসাও জেলার নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতে এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত (এনএফ) রেলওয়ে। প্রকৃতির প্রতিকূলতার মধ্যেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও মেরামতির কাজ অব্যাহত থাকলেও রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইন-১ ও লাইন-২ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে রেললাইনের নিচের মাটি ধসে ও বসে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই পাহাড়ি রেলপথ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতাধিক রেলকর্মী, প্রকৌশলী এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে দিন-রাত মেরামতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নতুন করে মাটি ভরাট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা আবার বসে যাওয়ায় একই স্থানে বারবার পুনরায় কাজ করতে হচ্ছে। ফলে মেরামতির কাজ প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
শুক্রবার মেরামতির নবম দিনেও মাটি ভরাট, পাথর ফেলা, ট্র্যাকের ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ জোরকদমে চলে। পাহাড় থেকে নেমে আসা বৃষ্টির জল দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।
যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ না করে আপাতত নিউ হারাংগাজাও স্টেশনের লাইন-৩ দিয়ে কঠোর নিরাপত্তা বিধি মেনে ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রেনকে নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ করতে হচ্ছে এবং ট্র্যাক পরীক্ষা শেষে তবেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন সম্পূর্ণ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ট্রেন চালানো হবে না। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি ট্রেন বাতিল, আংশিক বাতিল অথবা পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করছে। এছাড়া ২ আগস্ট পর্যন্ত দুল্লভছড়া–গুয়াহাটি–দুল্লভছড়া এবং শিলচর–গুয়াহাটি–শিলচর যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও দ্রুত রেল পরিষেবা স্বাভাবিক করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এনএফ রেল।



