২৯ জুন: অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান তহবিলে কোটি কোটি টাকার গরমিল ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে সিবিআই তদন্তের দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ ও বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, মামলাটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়াতেই বিবেচিত হবে, জরুরি ভিত্তিতে শুনানির প্রয়োজন নেই।
আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, রামমন্দিরের অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী সংরক্ষণ এবং হিসাবরক্ষণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তবে আদালত এই মামলাকে জরুরি শুনানির উপযুক্ত বলে মনে করেনি।
শুনানির সময় বেঞ্চ মৌখিকভাবে মন্তব্য করে, “এমন কোনও পরিস্থিতি নয় যে, অবিলম্বে শুনানি না হলে আকাশ ভেঙে পড়বে। গ্রীষ্মকালীন অবকাশের পরেও এই মামলার শুনানি হতে পারে।” যদিও আদালত আবেদনটি খারিজ করেনি। নিয়ম মেনেই পরবর্তী সময়ে মামলাটি তালিকাভুক্ত হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, রামমন্দিরের অনুদান তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মোট আটজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, মন্দিরে জমা পড়া বিপুল অনুদানের একটি বড় অংশের কোনও নির্ভরযোগ্য হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। নগদ অর্থের পাশাপাশি বহু মূল্যবান সোনা-রুপোর অলঙ্কারও নিখোঁজ বলে অভিযোগ। বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) রিপোর্টের ভিত্তিতে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সিটের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রামমন্দিরে নগদ প্রণামীর পরিমাণ ৩,৫০০ কোটিরও বেশি। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপো ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও অনুদান হিসেবে জমা পড়েছে। অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরা আড়াল করে নগদ টাকা গণনার সময় অর্থ আত্মসাৎ করা হতো। পরে সেই টাকা শৌচাগারে লুকিয়ে রেখে সুযোগ বুঝে বাইরে পাচার করা হত। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে প্রায় ৭০ বার অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক, অনুদান গণনার সঙ্গে যুক্ত টিন্নু যাদব, লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প শুক্লা, অবিনাশ শুক্ল, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। তদন্তকারী সংস্থার নজরে আরও অন্তত ১৮ জন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।



