২৭ এপ্রিল : ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলায় লণ্ডভণ্ড পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি। রাজধানী বামাকোর কাছে সেনাবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি ‘কাটি’-তে আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয়েছেন দেশের শক্তিশালী প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা। হামলায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন ও তুয়ারেগ যোদ্ধাদের একযোগে হামলায় রীতিমতো বিধ্বস্ত মালির সামরিক প্রশাসন।
সংবাদসংস্থা এএফপি (AFP) জানিয়েছে, রাজধানী বামাকো থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে কাটি সেনানিবাস এলাকায় সাদিও কামারার বাড়িতে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা নিয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে কামারা ছাড়াও তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন নাতি-নাতনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। উল্লেখ্য, এই কাটি এলাকাতেই মালির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা-ও বসবাস করেন। তবে সেনা সূত্রে খবর, প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন।
শনিবার ও রবিবারের এই হামলার পেছনে রয়েছে আল-কায়েদার মদতপুষ্ট সংগঠন ‘জামাত-আল-ইসমা ওয়াল-মুসলিমিন’ (JNIM) এবং ‘আজাওয়াদ লিবেরেশন ফ্রন্ট’ (FLA)-এর তুয়ারেগ যোদ্ধারা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, আগে এই গোষ্ঠীগুলি নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও, সম্প্রতি তারা মালির সেনা প্রশাসনের বিরুদ্ধে একযোগে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বামাকো ছাড়াও গাও, কিদাল এবং সেভারে-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সেনাঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র জঙ্গিরা।
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, বিশেষ করে সোনা ও বহুমূল্য ধাতুর ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও মালিতে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিদ্রোহ চলছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে বিদ্রোহীদের দমনে সেনাবাহিনী লড়াই চালালেও আল কায়েদা ও আইসিস সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির উপদ্রব প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মৃত্যু মালির সামরিক জুন্টার জন্য এক বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



