১১ জুন : মার্কিন সামরিক হামলার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রবেশের চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
বুধবার (১০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর নির্দেশে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় নতুন করে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, এসব অভিযান ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
সেন্টকমের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই ইরানের ফার্স প্রদেশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে মেহের জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ওই অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এ নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি করেছে। কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।



