সবুজের ছোঁয়ায় আশ্রম প্রাঙ্গণ, পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাজারিছড়ায়

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ এপ্রিল : “সবুজ হোক পরিবেশ, সুন্দর হোক আগামী প্রজন্ম”—এই বার্তাকে সামনে রেখে পাথারকান্দির বাজারিছড়া এলাকার কালাছড়া শ্রীশ্রী রাধারমণ আশ্রম প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো এক ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। বাজারিছড়া রাধারমণ সেবক সংঘের পরিচালন সমিতির উদ্যোগে রবিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় ভক্তবৃন্দ, গুরুভ্রাতা ও ভগিনীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আশ্রম প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে সবুজায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে এই উদ্যোগ এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংঘের সভাপতি সূচরিত পাল, সাধারণ সম্পাদক দেবজ্যোতি নাগসহ পরিচালন সমিতির সদস্যরা এবং বহু ভক্তপ্রাণ স্থানীয় বাসিন্দা।

অনুষ্ঠানের সূচনায় গুরু স্মরণ, প্রার্থনা ও শ্রীশ্রী রাধারমণের নামসংকীর্তনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুভারম্ভ হয়। পরে উপস্থিত সকলেই নিজ হাতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছের চারা রোপণ করেন এবং আশ্রম প্রাঙ্গণকে আরও সবুজ ও সুন্দর করে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এই উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক দেবজ্যোতি নাগ বলেন, “গুরুদেবের কৃপা এবং সকল ভক্তের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই পবিত্র আশ্রম গড়ে উঠেছে। এটি শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, বরং সমাজের ঐক্য ও আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র।” তিনি জানান, আশ্রমের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে ফুলগাছ রোপণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ফলদ, ঔষধি ও ছায়াদায়ী গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সফল করতে সকলের সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর সঠিক পরিচর্যার ওপরও জোর দেন তিনি। সংঘের সভাপতি সূচরিত পাল বলেন, “পরিবেশ রক্ষা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যদি পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে তা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে সহায়ক হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

বাজারিছড়ার কালাছড়া রাধারমণ সেবক সংঘের এই উদ্যোগ শুধু একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়, বরং প্রকৃতি, ধর্ম ও সমাজকে একসূত্রে বাঁধার এক অনন্য প্রয়াস—এমনটাই মত স্থানীয়দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *