ধারাবাহিক বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল দিখারি ও দেপী নদী, প্লাবিত ২০টিরও বেশি গ্রাম

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৯ জুন : শুক্রবারের প্রবল বর্ষণের পরই জোনাইয়ের দিখারি ও দেপী নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পায়। দিখারি নদীর বন্যার জলে জামুগুড়ি অঞ্চলসহ ২০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি, জোনাই সদরকে সংযুক্ত করা একমাত্র সড়কটিও বন্যার জলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই বন্যার জলে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ২০টিরও বেশি গ্রামের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য এবং গবাদি পশুর খাদ্যের সংকটসহ একাধিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এলাকাজুড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অরুণাচল প্রদেশে হওয়া ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে দিখারি নদীর জল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে জামুগুড়িসহ বহু গ্রামকে বন্যাকবলিত করেছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। তারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে ত্রাণ ও উদ্ধার ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

বন্যার কবলে পড়া বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে, জোনাই রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত গালিঘাট এলাকায় দেপী নদী ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নদীর তীব্র ভাঙনে ইতিমধ্যেই সাতটি পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রতিবেশী রাজ্য অরুণাচল থেকে নেমে আসা দেপী নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনের ফলে গালিঘাটে সাতটি পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। নদীর অব্যাহত ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে আরও কয়েকটি পরিবার নিজেদের বাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে মাত্র তিন দিন আগে জলসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন এবং সমীক্ষাও চালিয়েছিলেন। কিন্তু তার কয়েক দিনের মধ্যেই দেপী নদীর এই ভয়াবহ রূপ সামনে আসায় প্রশাসনের প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *