বরাক তরঙ্গ, ১৯ জুন : মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে বরাক উপত্যকা ও ডিমা হাসাও জেলার জাতীয় সড়ক এবং বিভিন্ন সড়ক অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় শুক্রবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী কৌশিক রায়, একাধিক বিধায়ক, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, এনএইচএআই ও এনএইচআইডিসিএলের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে চলমান প্রকল্পগুলির অগ্রগতি, বিভিন্ন সমস্যার কারণ এবং দ্রুত সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এদিন নারিমবুংলো–জাতিঙ্গা জংশন সড়ক নির্মাণকাজ আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করার জন্য এনএইচএআই-কে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বালাচেরা সড়কের বেহাল অবস্থা ও অসংখ্য গর্তের কারণে জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
এছাড়া ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্মিত তথাকথিত ‘ভূতুড়ে ঘর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে গর্ত ও যানজটের সমস্যা মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বৈঠকে পঞ্চগ্রাম–ভৈরবী সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প, রংপুর ফ্লাইওভার সংলগ্ন রাস্তার অবস্থা, শিলচরের ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রঙ্গিরখাড়ি পর্যন্ত সড়কের দুরবস্থা, মালুয়া এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা এবং মালিডহর–কালাইন সড়কের সমস্যাও আলোচনায় উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, বরাক উপত্যকা ও ডিমা হাসাওয়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য উন্নত সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলি সম্পন্ন করে মানুষের যাতায়াত আরও নিরাপদ, সহজ ও আধুনিক করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। সরকারের এই কঠোর অবস্থান এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।



