মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১২ জুন : রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই), পার্বত্য অঞ্চল উন্নয়ন ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে ডিমা হাসাও জেলায় এসে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। হাফলংয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি বিভিন্ন সরকারি বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে চলমান প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে সড়ক, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও গ্রামীণ উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং সাধারণ মানুষের সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
হাফলংয়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে গুয়াহাটি ফেরার পথে কৃষ্ণেন্দু পাল শিলচর–লুমডিং করিডরের জাতীয় সড়ক ২৭-এর নিরিমবাংলা অংশ পরিদর্শন করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূমিধসের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নির্মাণকাজ ব্যাহত হলেও বর্তমানে প্রকল্পটি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মন্ত্রী জানান, নিরিমবাংলা অংশের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৩.৪ কিলোমিটার অংশে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ চলছে। পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংস্কার কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই সড়ক শুধু একটি যোগাযোগ প্রকল্প নয়, বরং বরাক উপত্যকা ও ডিমা হাসাও জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে রাজ্য সরকার পাহাড় ও সমতলের উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। নিরিমবাংলা সড়ক সম্পূর্ণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায়ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।



