বরাক তরঙ্গ, ২৭ জুলাই : বাংলা সাহিত্য সভা, অসমের তিনসুকিয়া শাখার উদ্যোগে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ‘রবীন্দ্র উৎসব-২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি বাংলা-অসমিয়া ভাষার সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিপুল সাড়া মেলে।
৫ ও ৬ জুলাই বরপাথারের ভারত সেবাশ্রম সংঘে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতামূলক পর্বে তিনসুকিয়া, ডিব্রুগড়, দুলিয়াজান, যোরহাট, বড়ডুবি-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১৬৫ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। রবীন্দ্র কবিতা আবৃত্তি, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নৃত্য, হস্তলিপি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শিশু-কিশোরদের রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচর্চার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করতে তাঁর কবিতার ভিত্তিতে চিত্রাঙ্কনের বিষয় নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি বাংলা ও অসমিয়া—দুই ভাষাতেই হস্তলিপি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ‘পথপ্রান্তে’ ও ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের অসমিয়া অনুবাদ করেন শাখার সহ-সম্পাদক পায়েল মজুমদার।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ২৬ জুলাই তিনসুকিয়া উইমেন্স কলেজ প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও কবি প্রণাম অনুষ্ঠান। শুভানুধ্যায়ী শুক্লা ধর, দীপ্তি গুহ ও অর্চনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
জীবন কৃষ্ণ সরকারের পরিচালনায় উদ্বোধনী সংগীত ও শাখা সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ হয়। উপদেষ্টা সমীরণ গুহের বক্তব্যের পর সম্প্রতি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্পাদক ড. শেলি দত্ত ও সত্যজিৎ গোস্বামী। এদিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন গুয়াহাটির বিশিষ্ট বাউল শিল্পী বাউলা সঞ্জয়। তিনি রবীন্দ্রনাথ ও বাউল দর্শনের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি বাউল সংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
এছাড়াও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলায় ৮০ শতাংশের বেশি নম্বরপ্রাপ্ত কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নৃত্যাঞ্জলি ডান্স একাডেমির দলীয় নৃত্য, সারদা লার্ন সার্ভ ফাউন্ডেশনের গীত-আলেখ্য এবং সত্যজিৎ গোস্বামী ও শাশ্বতী ভট্টাচার্যের পরিচালনায় যৌথ নৃত্য-গীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। এতে নৃত্য পরিবেশন করেন মাধুরী ভট্টাচার্য ও তারা গোস্বামী এবং তবলায় সঙ্গত করেন দেবজ্যোতি চক্রবর্তী।

আয়োজকদের দাবি, শিশু-কিশোরদের মধ্যে রবীন্দ্রচর্চার আগ্রহ বাড়ানো এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির মাধ্যমে মাতৃভাষা বাংলার প্রসারে এ বছরের উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শাখার একঝাঁক তরুণ সহযাত্রীর সক্রিয় অংশগ্রহণও উৎসবকে সফল করে তোলে।
উল্লেখ্য, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য সভা, অসমের তিনসুকিয়া শাখা উপদেষ্টা সমীরণ গুহের নেতৃত্বে আপার অসমের বন্যাত্রাণ কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতেও বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও বাংলা-অসমিয়া সম্প্রীতির সেতুবন্ধন রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংগঠন।



