বিশ্বজিৎ আচার্য, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ অক্টোবর : শিলচরের ঐতিহ্যবাহী নতুনপট্টির শেওরাতলায় নবনির্মিত পূজা মণ্ডপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন রাজ্যসভার সদস্য কণাদ পুরকায়স্থ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ফিতা কেটে মণ্ডপের উদ্বোধন করেন তিনি। এই নতুন মণ্ডপ নির্মাণে মোট ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে।উদ্বোধনের পর পূজা কমিটির উদ্যোগে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় শিল্পীদের উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে অতিথিদের ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ বলেন, নতুনপট্টির শেওরাতলা অঞ্চলে কালীপূজার ইতিহাস প্রায় শতবর্ষের পুরনো। পরবর্তী সময়ে এখানে দুর্গাপূজারও সূচনা হয়। স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় ছোট মন্দিরটি আজ একটি বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, অন্নপূর্ণা ঘাটের তর্পণ ঘাট সংস্কারের জন্য ৪০ লক্ষ টাকা এবং শেওরাতলা মন্দিরের উন্নয়নে ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী দিনে নাটমন্দিরটিকে আরও উন্নত ও পরিকল্পিত রূপ দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

শেওরাতলা ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের সম্পাদক অজিত ভট্টাচার্য বলেন, এই মন্দিরের ভিত্তি স্থাপনে প্রাক্তন সাংসদ কবীন্দ্র পুরকায়স্থের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই আজও এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলেছে।
কাউন্সিলর বিজেন্দ্র সিং বলেন, করোনা মহামারি ও ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শিলচর পুর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নাটমন্দির নির্মাণ করা প্রয়োজন। দুর্যোগের সময় এসব স্থানে চিকিৎসা শিবির, জরুরি পরিষেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে। শেওরাতলা নাটমন্দিরের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সর্বজনীন শেওরাতলা দুর্গাপূজা কমিটির সভাপতি দীপক দাস, আইনজীবী অশোক কুমার পাল চৌধুরী, ভারতী ধর, রত্না চৌধুরী, শিলচর পূর্ত বিভাগের সহকারী বাস্তুকার অনুভব দাস, অমল দাস, অরিজিৎ আদিত্য, পার্থ ভট্টাচার্য সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, মণ্ডপ নির্মাণে প্রাক্তন সাংসদ তথা পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত প্রয়াত কবীন্দ্র পুরকায়স্থের ২০১০-১১ সালের ডিডিপি তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা এবং সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থের সাংসদ তহবিল থেকে ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়।



