মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৩ সেপ্টেম্বর : চেরাগি বাজারে বৃহৎ জানাজার মধ্য দিয়ে শেষ বিদায় জানানো হল দক্ষিণ করিমগঞ্জের প্রাক্তন মন্ত্রী ও চারবারের বিধায়ক সিদ্দেক আহমদকে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ চেরাগি বাজার সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষের ঢল নামে। দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, আলেম-উলামা, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও সাধারণ মানুষ প্রিয় নেতার শেষযাত্রায় শামিল হন।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন আমিরে শরিয়ত মওলানা ইউসুফ আলি। নামাজের আগে প্রয়াত নেতার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বহু মানুষকে চোখের জল মুছতে দেখা যায়।
জানাজা শেষে বিপুল মানুষের উপস্থিতিতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর পৈতৃক ভিটে রগরটুক গ্রামের মাজারে। সেখানেই ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে দাফন সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি রাজনৈতিক সহকর্মী ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী উপস্থিত ছিলেন।

জানাজায় দক্ষিণ করিমগঞ্জের বর্তমান বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী (শামিম), সোনাইয়ের বিধায়ক আমিনুর হক লস্কর, জেলা কংগ্রেস নেতা মইদুল ইসলাম, শাহাদত আহমদ চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্যা মমতাজ বেগমের প্রতিনিধি কবির আহমেদ-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। কাছাড়, হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমি জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও শেষ শ্রদ্ধা জানান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে কর্কট রোগে ভুগছিলেন সিদ্দেক আহমদ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে শিলচরের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে শনিবার তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
চারবারের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী হিসেবে দক্ষিণ করিমগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সিদ্দেক আহমদ। তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চেরাগি বাজারের বিশাল জনসমাগমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি। নিজ জন্মভূমির মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এই জননেতা।
রবিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।



