বরাক তরঙ্গ, ১৬ এপ্রিল : মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গুয়াহাটি পুলিশের কমিশনারের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সরকার পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে ওই পুলিশ আধিকারিককে পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগামী ৫ মে পুলিশ কমিশনার “তাঁর নিশানায় থাকবেন”। কংগ্রেস নেতা পবন খেরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পরও কীভাবে তিনি দ্রুত গুয়াহাটি ছেড়ে চলে যেতে পারলেন, তা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাত ১২টায় আমি এফআইআর দায়ের করি। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন হলে তা করা উচিত ছিল। কিন্তু সকাল ৬টার মধ্যেই পবন খেরা গুয়াহাটি ছেড়ে চলে যান। এর মানে অসম পুলিশ তাঁকে যেতে দিয়েছে।”
নিজের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শর্মা জানান, বিধানসভা নির্বাচনের সময় মডেল কোড অব কন্ডাক্ট বলবৎ থাকায় তিনি তখন হস্তক্ষেপ করতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, “আমি পবন খেরার চেয়ে অসম পুলিশের ওপর বেশি ক্ষুব্ধ। কীভাবে তিনি গুয়াহাটি ছাড়লেন?”
বর্তমানে গুয়াহাটি পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন পার্থ সারথি মহন্ত, যিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি আইজিপি (ট্রাফিক ও রোড সেফটি) এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, গুয়াহাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চ থানায় পবন খেরার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরের সূত্র ধরেই এই বিতর্কের সৃষ্টি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, মানহানি এবং নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত কংগ্রেস নেতাদের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিণিকি ভূঞা শর্মার একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগের পর রিণিকি ভূঞা শর্মা পবন খেরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন, যার ভিত্তিতে আসাম পুলিশ তাঁর বাসভবনে তল্লাশি চালায়। তিনি জানান, ন্যায়বিচারের স্বার্থেই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং এমন অভিযোগ হালকাভাবে নেওয়া যায় না। কংগ্রেস হতাশা থেকেই এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।



