বরাক তরঙ্গ, ১ জুন : নলবাড়ি জেলার চাঞ্চল্যকর ছাত্রনেতা হত্যা মামলায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পশ্চিম নলবাড়ি আঞ্চলিক ছাত্র সংস্থার সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাধুর্য বর্মন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে দুই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের নাম রোজ আলি ও হিতেশ আলি। দু’জনেরই বাড়ি পূর্ব কালাকুচি গ্রামে। পুলিশ ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে এবং গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, রবিবার রাতে নলবাড়ীর গঙ্গাপুর এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মাধুর্য বর্মন এবং তাঁর প্রায় ১৭ বছর বয়সি এক আত্মীয়া কিশোরীকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মাধুর্যের। গুরুতর আহত কিশোরী বর্তমানে সঙ্কটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
আহত কিশোরী মৃদুমুদ্রা ডেকার মায়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রোজ আলি তাঁদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রোজ আলি বাড়িতে এসে ছুরি দেখিয়ে হুমকিও দিয়েছিল বলে দাবি তাঁর। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। আহত মৃদুমুদ্রাও হামলাকারী হিসেবে রোজ আলি ও হিতেশ আলির নাম উল্লেখ করেছে বলে পরিবারের দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মৃদুমুদ্রা ডেকাকে নিয়ে বই কিনতে নলবাড়ি শহরে গিয়েছিলেন মাধুর্য বর্মন। বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে দু’জনের উপর হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, ঘটনাস্থলে থাকা স্কুটারটির কোনও ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি, অথচ দু’জনের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এদিকে, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে এক যুবক প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করছিল কি না এবং সেই সূত্রে এই হামলার যোগ রয়েছে কি না। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মুকালমুয়া পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। সমগ্র নলবাড়ী জেলায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।



