বরাক তরঙ্গ, ৬ আগস্ট : অসমে বন্যার জল কিছুটা কমতে শুরু করলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। বন্যার ভয়াবহতার পর এখন নতুন নতুন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অনেক পরিবার বাড়িতে ফিরলেও তাদের স্বপ্নের ঘর এখন কাদায় ভরে রয়েছে, যা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, বুধবার রাতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে টানা ভারি বৃষ্টির ফলে নদ-নদীর জলস্তর ফের বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বহু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জলের দ্রুত বৃদ্ধি রাজ্যজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বুধবার আরও ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় চলতি বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ জনে। একই সঙ্গে ১৪টি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১.৬ লক্ষে পৌঁছেছে।
বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। অন্যদিকে, রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, গোলাঘাট জেলার নুমলীগড়ে ধনশিরি নদীর জলস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং নদী থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্রসহ তার প্রধান উপনদী সুবনশিরি, ধনশিরি, জিয়াভরলী, কপিলী ও বেকী নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাতের ভারি বর্ষণে জলস্তর আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে নতুন করে বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগে প্লাবিত না হওয়া বহু গ্রাম ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমিও এখন পানির নিচে চলে গেছে। বহু জায়গায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
লক্ষ লক্ষ মানুষ বন্যার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। গৃহহীন পরিবারগুলো উঁচু স্থান, জাতীয় সড়ক এবং ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। হাজার হাজার হেক্টর ধান ও শাকসবজির জমি পানির নিচে থাকায় কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়েই চলেছে।
এদিকে, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ এবং স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে ২৪ ঘণ্টা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পানীয় জল, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় রাজ্যের পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বনাথ জেলার ব্রহ্মজান এলাকায় পাঁচটি এবং দরং জেলার মঙ্গলদৈয়ে দুটি বড় বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া চরাইদেউ জেলার চোলাপথারে একটি কাঠের সেতু এবং উদালগুড়ির টংলায় একটি ফুটব্রিজ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



