রূপক চক্রবর্তী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৬ আগস্ট : মিজোরামের কলাশিব জেলার দুই নাবালিকাকে ফুসলিয়ে কাছাড় জেলার ধলাই থানার অন্তর্গত পাকইবিল এলাকায় এনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ধলাই পুলিশ। মামলার তদন্তে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা একটি বোলেরো গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতিতাদের আদালতে আনার সময় ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক মহিলাকেও আটক করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাছাড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) রজত কুমার পাল জানান, মামলার তদন্ত চলছে এবং ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট অভিযুক্তরা কলাশিব থেকে দুই উপজাতি নাবালিকাকে একটি বোলেরো গাড়িতে করে পাকইবিলে নিয়ে আসে। অভিযোগ, সেখানে একটি নির্জন স্থানে গাড়ির ভেতরেই তাদের উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। পরে দুই নাবালিকাকে রাস্তায় ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ধলাই থানার অধীন লায়লাপুর ফাঁড়ি পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং সোমবার তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার তাদের আদালতে পেশ করা হলে আদালতের নির্দেশে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তদন্তের স্বার্থে বৃহস্পতিবার পুলিশ অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ (ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন) করে। একই সঙ্গে ঘটনায় ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা বোলেরো গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এদিকে, নির্যাতিত দুই নাবালিকাকে শিলচর আদালতে আনার সময় তাদের ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে এক মহিলার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের একজনের শাশুড়ি আদালত চত্বরে নির্যাতিতাদের ভিডিও রেকর্ড করছিলেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রজত কুমার পাল জানান, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সমস্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



