অরুণাচলের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা রাজস্ব ও উন্নয়নের বড় চালিকাশক্তি হতে পারে: উপরাষ্ট্রপতি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৯ সেপ্টেম্বর : অরুণাচল প্রদেশের বিপুল জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনাকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো হলে তা রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন। বুধবার অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, কৌশলগত অবস্থান, সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে অরুণাচলের উন্নয়নের প্রভাব রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে জাতীয় স্তরেও পড়ে।

তিনি বলেন, “বিকশিত অরুণাচল প্রদেশ ছাড়া বিকশিত ভারত সম্ভব নয়।” অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং উপজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতে সামিল করেই অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অরুণাচলের জলবিদ্যুৎ সম্পদের প্রসঙ্গ তুলে রাধাকৃষ্ণন বলেন, দায়িত্বশীলভাবে এই সম্পদ ব্যবহার করা গেলে রাজ্যের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতে পারে এবং উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।

অরুণাচল প্রদেশের পরিকাঠামো ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন উপরাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্যটি দেশের অন্যতম শীর্ষ কিউই উৎপাদক হিসেবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগের সম্প্রসারণ, এক লক্ষেরও বেশি সয়েল হেলথ কার্ড বিতরণ, শিক্ষা ও মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাধাকৃষ্ণন বলেন, গত কয়েক দশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিতে আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে ডোনার (DoNER) মন্ত্রক গঠন এবং পরবর্তীতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিধায়কদের নির্বাচনী রাজনীতির গণ্ডির বাইরে গিয়ে জনসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান উপরাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে জয়ী হওয়া যায়, কিন্তু মানুষের সম্মান ও আস্থা অর্জন করা যায় একমাত্র নিষ্ঠার সঙ্গে জনসেবা করার মাধ্যমে।” একই সঙ্গে বিধায়কদের প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জিরো আওয়ারের যথাযথ ব্যবহার করে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা এবং জনস্বার্থের বিষয় বিধানসভায় তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

রাজ্যসভার সভাপতিও রাধাকৃষ্ণন আইনসভায় বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর বক্তব্য, “বিতর্ক, আলোচনা বা এমনকি প্রতিবাদ—সবকিছুরই শেষ পর্যন্ত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।” গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে গঠনমূলক আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বিধানসভা চত্বরে সফরের সময় মহাত্মা গান্ধী ও বি. আর. আম্বেদকরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উপরাষ্ট্রপতি। তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনারও দেওয়া হয়। পরে তিনি বিধানসভা জাদুঘর পরিদর্শন করেন। ওই জাদুঘরে অরুণাচল প্রদেশের আইনসভার বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) কৈবল্য ত্রিবিক্রম পারনাইক, বিধানসভার স্পিকার তেসাম পংটে, মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু, উপমুখ্যমন্ত্রী চাওনা মেইন, বিধায়ক এবং রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিধানসভার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আইনসভার প্লাস্টিকমুক্ত সচিবালয়, গ্রন্থাগার ও জাদুঘরসহ বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন উপরাষ্ট্রপতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *