ভূপেন্দ্র সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় পাথারকান্দিতে ব্যাপক সাড়া, সংবর্ধিত পাঁচ প্রবীণ সঙ্গীত সাধক

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি
বরাক তরঙ্গ, ২৪ আগস্ট :
গান, নৃত্য, কবিতা ও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জমজমাট হয়ে উঠল দক্ষিণ অসম ভূপেন্দ্র সঙ্গীত প্রতিযোগিতার পাথারকান্দি কেন্দ্র পর্যায়ের আসর। অর্ধ শতাধিক প্রতিযোগীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পাশাপাশি বৃহত্তর পাথারকান্দি এলাকার পাঁচ প্রবীণ সঙ্গীত সাধককে বিশেষ সংবর্ধনা জানানোর মধ্য দিয়ে রবিবার মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠানটি।

‘ব্যতিক্রম গ্রুপ’-এর উদ্যোগে পাথারকান্দির নিজস্ব ক্লাব গৃহে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চতুরঙ্গ’। সকাল থেকেই প্রতিযোগী, অভিভাবক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।

ভারতরত্ন ড. ভূপেন হাজরিকার প্রতিকৃতির সামনে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রনোজিৎ ধর। এরপর ‘চতুরঙ্গ’-এর শিল্পী সুস্মিতা দাস ও চন্দা দেব ভূপেন হাজরিকার জনপ্রিয় গানের সঙ্গে দ্বৈত নৃত্য পরিবেশন করেন। তাঁদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই দর্শকদের মধ্যে আবেগ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘চতুরঙ্গ’-এর সভাপতি সুরজিৎ হোমচৌধুরী। প্রতিযোগিতার জেলা কো-অর্ডিনেটর অরূপ রায় প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভূপেন হাজরিকার গান ও সাংস্কৃতিক দর্শনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এরপর শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। বৃহত্তর পাথারকান্দি সমষ্টির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অর্ধ শতাধিক প্রতিযোগী তিনটি বিভাগে অংশ নেন। তাঁদের কণ্ঠে একের পর এক পরিবেশিত হয় ভূপেন হাজরিকার কালজয়ী সৃষ্টি।

শ্রীভূমি জেলা সদর থেকে আগত বিশিষ্ট সঙ্গীত গুরু অরূপ রতন দাস বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বিচারেই বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ‘ক’ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন প্রিয়াংশু সিনহা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান পান যথাক্রমে অর্চনা চক্রবর্তী ও নিলয়দ্বীপ্ত সিংহ। ‘খ’ বিভাগে প্রথম হন স্বস্তিকা সিনহা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন সুপর্ণা সামন্ত ও প্রাচী শ্যাম। ‘গ’ বিভাগে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর প্রথম স্থান দখল করেন দিয়া দে। দ্বিতীয় হন শ্রেয়া সিনহা এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন শুভম সিনহা।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এএস হোসেন আহমদ স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। তাঁর কবিতা পরিবেশন অনুষ্ঠানকে দেয় ভিন্ন মাত্রা।

তবে অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর পাথারকান্দি এলাকায় সঙ্গীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত পাঁচ প্রবীণ সঙ্গীত সাধককে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান। সঙ্গীতের প্রতি তাঁদের দীর্ঘদিনের অবদান ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের সম্মানিত করা হয়। সংবর্ধিতরা হলেন—বাজারিছড়া শশীনগরের উৎপলা দত্ত, পাথারকান্দি শহরের জগন্ময় দাশগুপ্ত, মন্ত্রীগ্রামের আরতি সিনহা, বাগাডহরের লোকেন্দ্র সিংহ এবং হাতিখিরার রাজকুমার দুসাদ।

প্রবীণ শিল্পীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত দর্শক ও শিল্পীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আয়োজকদের মতে, প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রবীণ শিল্পীদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাও এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভূপেন হাজরিকার গান ও তাঁর অসামান্য সাংস্কৃতিক দর্শনের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোও ছিল আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

বিকেলে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি পর্বে অতিথিদের হাত দিয়ে বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার পেয়ে বিজয়ীদের মধ্যে যেমন আনন্দের সঞ্চার হয়, তেমনই অভিভাবক ও দর্শকদের মধ্যেও দেখা যায় উচ্ছ্বাস। শেষে প্রতিযোগিতার পাথারকান্দি সমষ্টিভিত্তিক কো-অর্ডিনেটর আয়োজক, সহযোগী সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিচারক, শিল্পী, প্রতিযোগী, অভিভাবক ও উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *