বরাক তরঙ্গ, ৯ সেপ্টেম্বর : রিয়া তালুকদার হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রহস্যজনকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে ‘সুগার ড্যাডি’ প্রসঙ্গ। স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে হত্যার পর অভিযুক্ত রামানুজ গোস্বামী ‘সুগার ড্যাডি’র কথা উল্লেখ করেছিল। এমনকি স্ত্রী হত্যার ঘটনায় জেল থেকে বেরিয়ে এসে ওই ‘সুগার ড্যাডি’কেও হত্যা করার হুমকি দিয়েছিল রামানুজ। এরপরই প্রশ্ন উঠেছিল, এই ‘সুগার ড্যাডি’ আসলে কে?
ইতিমধ্যে তদন্তকারী পুলিশ রহস্যের কেন্দ্রে থাকা ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ‘সুগার ড্যাডি’র গুয়াহাটির ফ্যান্সিবাজারে ব্যবসা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তলব করতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, রামানুজকে জেলে পাঠানোর পর ‘সুগার ড্যাডি’কে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে তদন্তকারী দল। তবে এখনও পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগসূত্রের কোনও নিশ্চিত তথ্য পুলিশের হাতে আসেনি।
এদিকে, তদন্ত চলাকালীন স্ত্রী রিয়া তালুকদারের চরিত্র নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছে অভিযুক্ত রামানুজ।
তদন্তকারীদের মতে, স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিয়ার ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেই ‘সুগার ড্যাডি’র নাম সামনে এনেছে রামানুজ।

উল্লেখ্য, বহুল আলোচিত রিয়া তালুকদার হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এখনও উদ্ধার হয়নি রিয়ার হাতের সাতটি আঙুল। পুলিশ হেফাজতে থাকা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত রামানুজ এ বিষয়ে তদন্তকারী দলকে কোনও তথ্য দেয়নি বলে জানা গেছে। রিয়ার হাতের আঙুলগুলো কোথায় রাখা হয়েছে, সেই তথ্য উদ্ধারের জন্য তদন্তকারী পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে তথ্য পেতে রামানুজকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গুয়াহাটির বেলতলা-বশিষ্ঠপুরের ৪ নম্বর উপপথের ১৪ নম্বর বাড়ি থেকে রবিবার রাতে রিয়া তালুকদারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ‘অঞ্জলি গৃহ’ নামে ওই ভবনের তৃতীয় তলার নিজস্ব ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার রাতেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে রামানুজ গোস্বামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।



