হাইলাকান্দিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এরি ও মুগা চাষে সচেতনতা কর্মসূচি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৯ সেপ্টেম্বর : হাইলাকান্দি জেলাজুড়ে এরি ও মুগা রেশম চাষের প্রসারে গুরুত্ব বাড়াতে ধারাবাহিক সচেতনতা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেরা রেশম, মেরা অভিমান’ (এমআরএমএ) ২.০-এর আওতায় জেলার মোহনপুরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এরি ও মুগা রেশম চাষ সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে এক বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

‘বিজ্ঞানী-কৃষক মতবিনিময়’ এবং ‘কৃষক ক্ষেত্র দিবস’-কে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ৩০ জনেরও বেশি কৃষক অংশগ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় রেশম পর্ষদের কেন্দ্রীয় এরি ও মুগা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী-ডি ড. মোহাম্মদ মুজেরুদ্দিন বেগের উদ্যোগে এবং হাইলাকান্দি রেশম বিভাগের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি জেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে অব্যাহত রয়েছে।

কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এরি ও মুগা রেশম কীট প্রতিপালন, উন্নত খাদ্যগাছের পরিচর্যা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধ এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে সচেতন করা হয়। এর মাধ্যমে রেশম কীটের বেঁচে থাকার হার, গুটি উৎপাদন এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবারের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে তৃণমূল পর্যায়ে রেশম চাষের প্রসার ও কৃষকদের উৎসাহিত করতে রেশম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত অন্তরা সেন এবং জগদীশ শর্মা উপস্থিত থেকে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁরা উন্নত পদ্ধতিতে রেশম চাষের মাধ্যমে কৃষকদের আয় ও জীবিকার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এদিন মুগা ও এরি রেশম কীটের খাদ্যগাছ হিসেবে ব্যবহৃত সোম ও কেছেরু গাছের চারা প্রগতিশীল কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে খাদ্যগাছের বাগান গড়ে তোলা এবং রেশম চাষভিত্তিক জীবিকাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এমআরএমএ ২.০-এর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান, সম্প্রসারণ সংস্থা এবং কৃষকদের মধ্যে সংযোগ আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি উন্নত রেশম প্রযুক্তি সরাসরি কৃষকের মাঠে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইলাকান্দিতে রেশম চাষকে একটি টেকসই জীবিকার সুযোগ হিসেবে গড়ে তুলতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলবে বলে জানান বিজ্ঞানী-ডি ড. মোহাম্মদ মুজেরুদ্দিন বেগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *