মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ জুন : শ্রীভূমি জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সম্মিলনীর সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হলেন শিক্ষক নেতা আজমল হোসেন। একই সঙ্গে সম্মিলনীর সাধারণ সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সমরিন্দুকুমার পাল। রবিবার পাথারকান্দি রবীন্দ্র ভবনে অনুষ্ঠিত সম্মিলনীর ৪৬তম দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন ঘিরে জেলার শিক্ষক সমাজে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দিনভর বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমের পর সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়া গভীর রাত পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। সভাপতি পদে অনুষ্ঠিত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আজমল হোসেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সৈয়দ কুবাদ আহমদকে ২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনে আজমল হোসেন লাভ করেন ৯৪টি ভোট, অন্যদিকে সৈয়দ কুবাদ আহমদের ঝুলিতে যায় ৭৪টি ভোট। ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয় এবং সমর্থকদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় ভেসে যান নবনির্বাচিত সভাপতি।
অন্যদিকে, সম্মিলনীর সাধারণ সম্পাদক পদে একতরফা জয় তুলে নেন সমরিন্দু কুমার পাল। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অরিজিৎ পালকে ১৩০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনে সমরিন্দু পাল পান ১৮৮টি ভোট, যেখানে অরিজিৎ পালের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল ৫৮টি। বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে সমরিন্দু পাল শিক্ষক সংগঠনের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। গভীর রাত পর্যন্ত চলা ভোট গণনার পর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির ফলাফলও ঘোষণা করা হয়। সম্মিলনীর উপ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হন ফরহাদ আহমদ চৌধুরী। মহিলা সংরক্ষিত উপ-সভানেত্রী পদে মনোয়ারা বেগম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনীত হন। একইভাবে সহ-সম্পাদক পদে ১২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন হিরন্ময় চক্রবর্তী, এবং মহিলা সংরক্ষিত সহ-সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনীত হন লিপি দেব।

সংগঠনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলির মধ্যে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রেজারুল করিম চৌধুরী, চেয়ারম্যান (অডিট) হিসেবে শান্তনু দে এবং চেয়ারম্যান (উপদেষ্টা বোর্ড) হিসেবে আব্দুল বাছিত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।এছাড়াও রাজ্যিক সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে জয়লাভ করেন দীপ দাস, অর্ধেন্দু দাস, আহমদ আব্দুল মনছুর লস্কর, কৃষ্ণ প্রসাদ শর্মা, পঙ্কজ কুমার দাস এবং প্রশান্ত শেখর পাল। অপরদিকে রাজ্যিক সদস্য হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনীত হন চন্দন ত্রিপাঠি, মুজাক্কির হোসেন, মনোরুল ইসলাম, রেকমান আলি, শরিফুল আলম এবং একমাত্র মহিলা সদস্য কৃষ্ণা সিনহা।
উল্লেখ্য, রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সম্মিলনীর ৪৬তম দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভার প্রকাশ্য অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। পুরো নির্বাচনকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন রাজ্যিক কমিটির প্রাক্তন উপ-সভাপতি প্রণবকুমার দে, যিনি অবজারভার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ ও গণনা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় শিক্ষক মহলে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হলো, প্রায় ১৩ বছর পর পাথারকান্দি শিক্ষা খণ্ডে এই বৃহৎ জেলা শিক্ষক সম্মিলনীর দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হলো। দীর্ঘদিন পর এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক মহলে ছিল স্বস্তি ও আনন্দের আবহ। অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলতে সহযোগিতা করা সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রতিনিধি, অতিথি এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন পাথারকান্দি খণ্ড শিক্ষক সম্মিলনীর সভাপতি ফখরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ সিনহা। নবনির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতি জেলার শিক্ষক সমাজ ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। সংগঠনের ঐতিহ্য, শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের স্বার্থরক্ষায় নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



