বরাক তরঙ্গ, ৭ আগস্ট : প্রশাসনিক দক্ষতা ও সমাজসেবামূলক কাজের জন্য পরিচিত বর্তমান নগাঁও জেলার জেলা কমিশনার দেবাশিস শর্মা স্বেচ্ছায় অবসর (ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট) নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, স্বেচ্ছাবসর গ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি আগামীকাল রাজ্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনপত্র পাঠাবেন। যদিও এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, চাকরির মেয়াদ শেষ হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও তাঁকে উচ্চপদে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই জনপ্রিয় এই আইএএস আধিকারিকের স্বেচ্ছাবসরের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
দেবাশিস শর্মার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। ভবিষ্যতে সমাজের জন্য আরও বেশি সময় দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি স্বেচ্ছাবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মুম্বইয়ে অবস্থিত অসম ভবনের রেসিডেন্সিয়াল অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন চিকিৎসার জন্য সেখানে যাওয়া, বিশেষ করে ক্যানসার আক্রান্ত অসমের রোগীদের সহায়তায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর উদ্যোগেই সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকার অসম সরকারের জন্য একটি ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমি হস্তান্তর করে, যাতে রোগীদের সঙ্গে থাকা অভিভাবকদের থাকার সুবিধা হয়। সেই জমির নথিও তিনি নিজে মুম্বই গিয়ে গ্রহণ করেন।
এছাড়া, শিল্পী ভূপেন হাজরিকার চিকিৎসাকালীন হাসপাতালে তাঁর আন্তরিক সেবার জন্যও তিনি রাজ্যজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। নগাঁওয়ের আগে মরিগাঁও জেলার জেলা কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সেখানকার মানুষের আস্থা অর্জন করেন এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পান।
নগাঁও জেলাতেও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের গাফিলতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, বন্যহাতির আক্রমণের শিকার পরিবার, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না-পাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি দিন-রাত কাজ করে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
তাঁর এই সম্ভাব্য স্বেচ্ছাবসরকে ঘিরে একাংশের আশঙ্কা, প্রশাসনিক দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তিনি আগের মতো কাজ করতে পারবেন কি না। তবে অনেকেরই বিশ্বাস, সমাজসেবায় পূর্ণ সময় দিতে পারলে তাঁর ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে। বরগীত, ভূপেন হাজরিকার গান, জুবিন গর্গের সঙ্গীত, খেলাধুলা এবং শিক্ষা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই সমান আগ্রহী এই আইএএস আধিকারিকের সিদ্ধান্তে রাজ্য সরকার কী প্রতিক্রিয়া জানায়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।



