সাত বছর পর প্রকাশিত ‘আর্ট ইকো’র ২০তম সংখ্যা, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোড়ক উন্মোচন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৩ অক্টোবর : দীর্ঘ সাত বছরের বিরতি কাটিয়ে প্রকাশিত হলো কলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দ্বিভাষিক জার্নাল ‘আর্ট ইকো’র ২০তম সংখ্যা। মঙ্গলবার গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জার্নালটির নতুন সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ১৮ জন লেখকের লেখা সমৃদ্ধ এই সংখ্যাটি বরাক উপত্যকার শিল্প, সংস্কৃতি ও দৃশ্যশিল্পের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং গবেষণার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিশিষ্টজনেরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান শিল্পাঙ্গনের অধ্যক্ষ সন্দীপন দত্ত পুরকায়স্থ ও জার্নালটির সহ-সম্পাদক ড. বিনয় পাল। এরপর গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিরঞ্জন রায়, নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ, অধ্যাপিকা সুপর্ণা রায়, শিলচর শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অধ্যক্ষা অপর্ণা ভট্টাচার্য, শিল্পাঙ্গনের সভাপতি নীহার রঞ্জন পাল এবং আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজকুমার মাজিন্দার-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যৌথভাবে জার্নালটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

স্বাগত বক্তব্যে জার্নালের সম্পাদক ড. পিনাকপাণি নাথ বলেন, ‘আর্ট ইকো’র যাত্রা দীর্ঘদিনের। প্রথমদিকে ত্রৈমাসিক পত্রিকা হিসেবে এর প্রকাশ শুরু হয়েছিল। বরাক উপত্যকার দৃশ্যশিল্পের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং শিল্পীদের অবদান তুলে ধরাই এই জার্নালের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বরাক উপত্যকায় সরকারি মিউজিয়াম ও উপযুক্ত আর্ট গ্যালারির অভাবের কারণে শিল্পচর্চা, প্রদর্শনী এবং গবেষণার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও বরাক উপত্যকার পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারত ও দেশের শিল্প-ইতিহাস গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এবারের সংখ্যায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র স্থান পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিরঞ্জন রায় বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে একটি মুদ্রিত আর্ট জার্নাল প্রকাশ করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন সংখ্যা প্রকাশের জন্য তিনি সম্পাদক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান। জার্নালটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে নিয়মিত প্রকাশনা, গবেষণাপত্রের যথাযথ পর্যালোচনা এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি আর্ট গ্যালারি গড়ে তোলা সম্ভব হলে শিল্পী, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন বলে আশাপ্রকাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ বলেন, দীর্ঘ সাত বছর পর ‘আর্ট ইকো’র নতুন সংখ্যা প্রকাশ একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। শিল্প এমন একটি মাধ্যম, যার সাহায্যে বহু না-বলা কথা প্রকাশ করা সম্ভব। অজন্তা গুহার চিত্রকলা-সহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনের মাধ্যমে অতীতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা যায়। তাই শিল্প ও শিল্পীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, লেখক সংগ্রহ, সম্পাদনা, প্রুফ সংশোধন এবং উন্নত মানের কাগজে পত্রিকা প্রকাশ—প্রতিটি ধাপেই যথেষ্ট শ্রম ও অর্থের প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিল্পচর্চার প্রসার, আর্ট গ্যালারি গঠন এবং নবীন শিল্পীদের প্রতিভা বিকাশে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

অধ্যাপিকা সুপর্ণা রায় ‘আর্ট ইকো’র দীর্ঘ যাত্রার প্রশংসা করে বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা সমাজের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আমরাই আমাদের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তাই এই ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সকলের দায়িত্ব। তিনি জার্নালটির ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন এবং প্রয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শিলচর শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের অধ্যক্ষা অপর্ণা ভট্টাচার্য। শিল্পাঙ্গনের সভাপতি নীহার রঞ্জন পালের ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিল্পাঙ্গনের সদস্য রাজীব দে ও রোহিত চন্দ। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতীতি শীল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *