বরাক তরঙ্গ, ১৩ অক্টোবর : স্থানীয় মণিপুরি মহিলাদের সম্মতি ছাড়া তৈরি বা প্রচারিত যৌন উত্তেজক ছবি ও ভিডিও এবং শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অবৈধ সামগ্রী (CSAM) টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং তা থেকে আর্থিক মুনাফা অর্জনের অভিযোগে বড়সড় অভিযান চালাল বিষ্ণুপুর জেলা পুলিশ। ‘অপারেশন ডিগনিটি’ নামে এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন আইনগত সংঘাতে জড়িত শিশু (CCL) রয়েছে।
মণিপুর পুলিশের বিষ্ণুপুর জেলা শাখার তরফে জানানো হয়েছে, গত ৩ অক্টোবর এ সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পরই অভিযান শুরু হয়। ১৩ অক্টোবর সাংবাদিকদের সামনে অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরে পুলিশ। মইরাংয়ের এসডিপিও-র নেতৃত্বে এবং বিষ্ণুপুরের পুলিশ সুপারের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ঘটনার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act), পকসো আইন (POCSO Act) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
অভিযানে বড় সাফল্য পুলিশের
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ১৩ জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ১৪টি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তে ১৫০টিরও বেশি টেলিগ্রাম চ্যানেল ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ৩৮টি চ্যানেল বা গ্রুপ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হল এন. রাজেশ সিং ওরফে মাইপাকচাও (২১), বিষ্ণুপুর। এইচ. ধনজিত সিং ওরফে টাইসন (১৯), বিষ্ণুপুর। এস. সাফাবা সিং (১৯), ইম্ফল পশ্চিম। থ. ক্যাভেন্ডিশ সিং ওরফে ইঙ্গোচা (২১), কাকচিং। এইচ. রোজিত সিং (১৯), বিষ্ণুপুর। এম. ক্লিনটন সিং (২৮), বিষ্ণুপুর। খ. বিপিন সিং (৩১), থৌবাল। এস. সিম্পসন সিং (৩৪), ইম্ফল পশ্চিম। এ. আরিয়া সিং (২৪), বিষ্ণুপুর। এস. আলেকজান্ডার সিং (৩১), কাকচিং। কে. রাকেশ সিং (১৮), ইম্ফল পশ্চিম। ছ. রবার্ট সিং (২৭), ইম্ফল পশ্চিম। একজন আইনগত সংঘাতে জড়িত শিশু (CCL)।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেনের সূত্র এবং ক্ষতিগ্রস্তদের শনাক্ত করার কাজ এখনও চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সন্ধানেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মহিলাদের সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত ও যৌন বিষয়ক ছবি-ভিডিও প্রচার এবং শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অবৈধ সামগ্রীর অনলাইন বিস্তার রুখতে এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



