নিখোঁজ চিকিৎসা পরিবহন বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার, ছয় আরোহীর মৃত্যুর আশঙ্কা

Spread the news

৫ অক্টোবর : আটলান্টিক মহাসাগরে নিখোঁজ হওয়া একটি চিকিৎসা পরিবহন বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড। ম্যাসাচুসেটসের ন্যানটাকেট দ্বীপের উপকূল থেকে বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর প্রায় ৬৬ ঘণ্টা ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও ছয় আরোহীর কোনো সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। বিমানের পরিচালনাকারী সংস্থা ছয় আরোহীকেই মৃত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ৪ অক্টোবর মার্কিন কোস্টগার্ড জানায়, ন্যানটাকেট উপকূল ও আশপাশের সমুদ্র এলাকায় বিমান ও নৌযান ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়। শনিবার সাগরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষের একটি অংশ উদ্ধার হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল। তবে জীবিত কারও সন্ধান না মেলায় অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নিখোঁজ বিমানটি ছিল কানাডাভিত্তিক চিকিৎসা পরিবহন সংস্থা ল্যাটিচিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের গালফস্ট্রিম জি-১০০। বিমানটি বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। বিমানে ছিলেন দুই পাইলট, দুই চিকিৎসাকর্মী, একজন রোগী এবং রোগীর এক স্বজন। তাঁদের মধ্যে চারজন কানাডার নাগরিক এবং দুজন বারমুডার বাসিন্দা ছিলেন।
বারমুডা থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে পাইলট বিমানে বৈদ্যুতিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন এবং জরুরি পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছিলেন বলে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের রেডিও যোগাযোগ থেকে জানা গেছে।

উড্ডয়নের সময় বিমানটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। পরে সেটি দ্রুত নেমে প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় চলে আসে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পাইলটকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলেও তাঁর জবাব স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি।

ল্যাটিচিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাঁদের চার কর্মী, রোগী এবং রোগীর স্বজন—ছয়জনই সম্ভবত প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ধার ও তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *