আব্দুল হক, সোনাই।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ জুলাই : বরাক উপত্যকার মধ্যে কৃষি প্রধান সোনাই এলাকার কৃষকদের সম্বল গবাদিপশু।বন্যা কবলিত এলাকা হিসেবে চিন্হিত সোনাই এলাকা। বন্যার জল ক্ষেতকৃষি ভাসিয়ে নেওয়ার পর কৃষকদের একমাত্র সম্বল থাকে গবাদিপশু।কিন্তু খাদ্যের অভাব আর নানা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু নিয়ে কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েন।চিকিৎসার অভাবে গবাদিপশু মারা যায়।এতে আর্থিক দিকে চরম বিপাকে পড়েন কৃষকরা।রবিবার সাতকরাকান্দি জিপির ঝাঞ্জারবালি এমই স্কুলে জেলা পশু পালন বিভাগ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সোনাইর বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর কৃষকদের সম্বল গবাদিপশু রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, মানুষ অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। এমনকি স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বোবা গবাদিপশু অসুস্থ হলে চিকিৎসার দিকে গুরুত্ব থাকেনা। আর্থিক দিকে দূর্বল কৃষকরা চিকিৎসার অভাবে শেষ সম্বল গবাদিপশুর জন্য চোখের জলে শেষ বিদায় দিতে হয়। তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে গবাদিপশু রক্ষায় চিকিৎসা শিবির করার মত মানষিকতা আমাদের মধ্যে তেমন চোখে পড়ে না।ঝাঞ্জারবালি গ্রামের যুবকরা গবাদিপশু রক্ষায় চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করে মানব সমাজের চোখ খুলে দিয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কথা বলতে পারেনা গবাদিপশু অসুস্থ হলে একজন পশু চিকিৎসক নিজের বিবেক খাটিয়ে গবাদিপশুকে সুস্থ করে তোলেন। এরাই প্রকৃত ডাক্তার আর সঠিক সম্মানের পাত্র। বন্যা কবলিত সোনাই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গবাদিপশু চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করতে জেলা পশুপালন বিভাগ আধিকারিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন বিধায়ক।
সমাজসেবী ফারুক আহমদ বড়ভূইয়ার পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা পশুপালন বিভাগের জয়েন্ট ডিরেক্টর মনোরঞ্জন সরকার বক্তব্যে বলেন গবাদিপশু রক্ষায় পলকদের সচেতন না হলে পশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে কষ্ট পায়। এমনকি পালকের সচেতনতার অভাবে গবাদিপশু মারা যায়।ঝাঞ্জারবালি গ্রামে গবাদিপশু রক্ষায় সাব-সেণ্টার দাবির প্রেক্ষিতে জয়েন্ট ডিরেক্টর বলেন একজন চিকিৎসক দেওয়া হবে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা গ্রামবাসীরা নিতে হবে। তিনি বলেন,গ্রামাঞ্চলে এরূপ চিকিৎসা শিবিরের প্রয়োজন হলে জেলা পশুপালন বিভাগ এগিয়ে আসবে বলে আশ্বাস দেন জয়েন্ট ডিরেক্টর।সভায় বক্তব্য রাখেন পশুপালন বিভাগ অফিসার ইনচার্জ বিপুল ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা। গোটা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা কংগ্রেস কিষান মোর্চা সভাপতি বাবুল বড়ভূইয়া। এদিনের শিবিরে তিনশোর অধিক গরু ছাগলের চিকিৎসা করা হয়।



