৩০ জুন : বিশ্বকাপে বড় অঘটনের জন্ম দিল প্যারাগুয়ে। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেও শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি জুলিয়ান নাগালসম্যানের জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১–১ সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে ৪–৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।
শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল জার্মানি। তবে প্যারাগুয়ের সুসংগঠিত রক্ষণ এবং মাঝমাঠে আন্দ্রেস কুবাসের কার্যকর মার্কিংয়ে কাই হাভার্টজ কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। দুই ফুলব্যাক জশুয়া কিমিচ ও নাথানিয়েল ব্রাউন আক্রমণে উঠলেও লেরয় সানে ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজ উইং দিয়ে তেমন কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।
ম্যাচের ৪২তম মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। প্রথম আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন ম্যানুয়েল নয়ার। তবে ফিরতি বলে মাতিয়াস গালারজার ক্রসে হুলিও এনসিসো হেডে গোল করে দলকে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জার্মানি। ৫৩তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের বাড়ানো বলে দারুণ হেডে সমতা ফেরান কাই হাভার্টজ। এরপর দুই দলই একাধিক সুযোগ পেলেও নির্ধারিত সময়ে আর গোলের দেখা মেলেনি।
অতিরিক্ত সময়ের ১০২তম মিনিটে জোনাথান টাহর হেডে বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের আগে ওয়ালদেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে বাধা দিয়েছিলেন। ফলে রেফারি গোলটি বাতিল করেন।
শেষ দিকে ক্লান্তি ও স্নায়ুচাপের প্রভাব পড়ে দুই দলের খেলায়। কঠিন ট্যাকলের কারণে জার্মানির কাই হাভার্টজ ও জামাল মুসিয়ালা এবং প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারজা হলুদ কার্ড দেখেন। ১২০ মিনিটের লড়াই ১–১ সমতায় শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে শুরুতেই কাই হাভার্টজের শট প্রতিহত হয়। প্যারাগুয়ের হয়ে মাউরিসিও, গুস্তাভো গোমেজ ও মাতিয়াস গালারজা প্রথম তিনটি শট সফলভাবে জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। জার্মানির হয়ে জশুয়া কিমিচ ও জামাল মুসিয়ালা গোল করলেও নিক ওল্টমেড ব্যর্থ হন।
নাটকীয় মুহূর্ত আসে এরপর। প্যারাগুয়ের আন্তোনিও সানাব্রিয়া ও ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনা টানা দুটি শট মিস করায় জার্মানির সামনে সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়। নাদিয়েম আমিরি সেই সুযোগ কাজে লাগান।
ষষ্ঠ শটে জোনাথান টাহ গোল করতে ব্যর্থ হলে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পায় প্যারাগুয়ে। শেষ শটে হোসে ক্যানাল ম্যানুয়েল নয়ারকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান। তাতেই টাইব্রেকারে ৪–৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে এবং বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয়। অন্যদিকে হতাশাজনকভাবে বিদায় নিতে হয় জার্মানিকে।



