৩০ জুন : নকআউট পর্বে আরেকটি শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট মিলিয়ে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। সেখানে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আটলাস লায়ন্সরা।
ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো। টাইব্রেকারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সেভই দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেয়। কাতার বিশ্বকাপে যেমন তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স মরক্কোকে সেমিফাইনালে তুলেছিল, এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসের একের পর এক ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত তাদের বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কুইন্টন টিম্বার, সামারভিল ও জাস্টিন ক্লুইভার্ট নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। অন্যদিকে, মরক্কোরও হাকিম জিয়েচের বদলে দায়িত্ব নেওয়া আশরাফ হাকিমি ও আনাউই পেনাল্টি মিস করেন। তবে শেষ শটে সাইবারি গোল করে মরক্কোর জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে ৭২ মিনিটে। বদলি হিসেবে নেমে ওয়াউট ভেগহর্স্ট আক্রমণ গড়ে তুললে সামারভিলের শট প্রতিহত হয়। ফিরতি বলে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে জাল কাঁপান কোডি গাকপো। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোক কাটিয়ে মাঠে নেমে গোল করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ডাচ ফরোয়ার্ড। চোখের জলেই উদযাপন করেন নিজের গোল, আর সতীর্থরা ছুটে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন।
তবে শেষ হাসি হাসতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে বাঁ দিক থেকে বদলি খেলোয়াড় তালবির নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান সেন্টার-ব্যাক ইসা দিওফ। বলের গতিপথ বুঝতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক, যার সুযোগ নিয়ে গোল করেন দিওফ।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দল আর গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ইয়াসিন বোনোর দুর্দান্ত গোলকিপিং এবং ডাচ ফুটবলারদের একের পর এক ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় মরক্কো। টানটান উত্তেজনার এই জয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়ে আবারও নিজেদের নকআউটের লড়াইয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রমাণ করল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।



