অনিতা পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ জুন : দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলেন অপহৃত কৃষক রঞ্জিত দাস। মঙ্গলবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কাছাড় জেলার কাটিগড়া থানার অন্তর্গত কিন্নরখাল এলাকার চণ্ডীনগর দ্বিতীয় খণ্ড গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ, সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের জমিতে কৃষিকাজ করার সময় ৬৫ বছর বয়সী কৃষক রঞ্জিত দাসকে বাংলাদেশের দিক থেকে আসা সাতজনের এক দুষ্কৃতী দল জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ পান্না, সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, জেলা পরিষদ সদস্য জিল্লুর নুর চৌধুরী-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। উপস্থিত ছিলেন কাছাড় জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার সঞ্জীবকুমার শইকিয়া, সার্কল অফিসার যাত্রাকান্ত কর্মকার এবং কাটিগড়া থানার ওসি নবকুমার শইকিয়া।
ঘটনার পর বিএসএফ ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-র মধ্যে দফায় দফায় ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। অবশেষে রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ বিজিবি অপহৃত রঞ্জিত দাসকে ভাঙ্গা বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেয়। পরে তাঁকে কাটিগড়া মডেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উদ্ধারের পর রঞ্জিত দাস জানান, তাঁকে মারধর করা হয়েছে। তবে দেশে ফিরে তিনি সরকার, প্রশাসন ও উদ্ধারকাজে যুক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এদিকে তাঁর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে পরিবার-পরিজন ও সীমান্তবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থও রাজ্য সরকার, কেন্দ্র সরকার এবং প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেন।



