জনসংযোগ, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১ আগস্ট : মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং স্তন্যপানের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শনিবার করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালক ডাঃ মতীন্দ্র সূত্রধর। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মায়ের দুধই নবজাতকের জন্য সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে এবং শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে গর্ভবতী মহিলা ও সদ্য প্রসূতি মায়েদের প্রসবের এক ঘণ্টার মধ্যে স্তন্যপান শুরু করা, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং দুই বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত পরিপূরক খাদ্যের সঙ্গে স্তন্যপান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ প্রদানের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আয়ুষ বিভাগের নোডাল অফিসার ডাঃ জামাল আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সফল স্তন্যপান নিশ্চিত করতে পরিবার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সকল সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীকে স্তন্যপান সম্পর্কিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে এবং নিয়মিত পরামর্শ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর সুস্থ জীবনের ভিত্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের জেলা মিডিয়া বিশেষজ্ঞ সুমন চৌধুরী। তিনি এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং-এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সঠিক স্বাস্থ্যবার্তা প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং শিশু ও মাতৃপুষ্টি বিষয়ক ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক আরবান আশা কর্মী, জিএনএম প্রশিক্ষণার্থী, চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী অংশগ্রহণ করেন। সকল অংশগ্রহণকারী মাতৃ ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং শিশু ও কিশোর বয়সের উপযোগী সঠিক খাদ্যাভ্যাস প্রচারে জনসম্পৃক্ততা, পরামর্শদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী কয়েকদিন ধরে শ্রীভূমি জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক সভা, পরামর্শদান, জনসচেতনতা কর্মসূচি এবং স্তন্যপান প্রচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো মায়েদের জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং পরবর্তীতে উপযুক্ত পরিপূরক খাদ্যের সঙ্গে স্তন্যপান চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা, যাতে প্রতিটি শিশুর সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের সূচনা নিশ্চিত হয় এবং জেলার মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে।



