মাদক পাচারে মহিলাদের ব্যবহার: সমাজের জন্য অশনিসংকেত

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৫ জুন, সোমবার,
মাজে মাদকদ্রব্যের বিস্তার আজ এক গভীর সামাজিক ও মানবিক সঙ্কটের রূপ নিয়েছে। যুবসমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা অপরাধচক্রের জন্য বিপুল মুনাফার উৎস হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মাদক পাচারের কাজে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারী, বিশেষ করে মুসলিম মহিলাদের ব্যবহার করা হচ্ছে এমন খবর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপ্রিয় সত্য, মাদক ব্যবসায় অধিকাংশের বেশি জড়িত মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবক। খবরে দেখা যায় অসম বা সমতলে পুলিশের জালে আটক হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই মুসলিম। কিন্তু সম্প্রতি তার চিত্র পাল্টে দিচ্ছে সমাজবিরোধী তথা মাদক পাচারকারীরা। এতে অসহায়, গরিব মুসলিম মহিলাদের ব্যবহার করছে। দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষার অভাব এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে তারা অনেক মহিলাকে পাচারের কাজে জড়িয়ে ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে তারা জানতেও পারেন না যে তাঁরা অপরাধচক্রের হাতিয়ার হয়ে উঠছেন। তা সত্যি উদ্বেগজনক। এর আগে এমন ঘটনা চোখে পড়েনি। গত দু’মাসে কাছাড় পুলিশের হাতে প্রায় আট জন মহিলা মাদক সহ ধরা পড়ে। এরমধ্যে সোনাই দক্ষিণ মোহনপুর সপ্তম খণ্ডের সুহানা বেগম লস্কর (৩৮) ও মানোয়ারা বেগম লস্কর (৪১),  শিলচর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে গুল নিহার বেগম লস্কর, সোনাইয়ে রাশমিনা বেগম (৩১) ও মমতাজ বেগম চৌধুরী (৩৭)-কে আটক করে। মাদক চক্রগুলি সাধারণত সমাজের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষদের লক্ষ্য করে তা বটেই। এবং তারাও এই চক্রের শিকার বলে মনে হয়। আবার কোথাও কোথাও আর্থিক চাপে পড়ে বা প্রতারণার শিকার হয়ে এই কাজে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হন। তবে সংখ্যা বৃদ্ধির আগেই সচেতন হতে হবে।

যাইহোক, একজন মহিলা হচ্ছেন তাঁর সন্তানের কাছে প্রথম শিক্ষক। মায়ের কাছ থেকেই সন্তান সমাজে মাথা উঁচু করে চলার শিক্ষা পায়। আর যদি এই সন্তানের মা এমন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন তাহলে সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে ভাবলে মনের আকাশে কালো মেঘ দেখা যায়। ফলে কোনও মহিলা যদি অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন, তার নেতিবাচক প্রভাব শুধু তাঁর নিজের জীবনে নয়, তাঁর পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যতের ওপরও পড়ে। আর অভাব অনটন যতই হোক না কেন মেরুদণ্ড সোজা না রাখলে যেকোন সময় ধূলিসাৎ হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, মাদক পাচারকারীরা অনেক সময় মহিলাদের ব্যবহার করে কারণ তাঁদের প্রতি সন্দেহ তুলনামূলকভাবে কম হয়। কিন্তু এই প্রবণতা কেবল আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এটি নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেও জড়িত। ফলে সমস্যার সমাধান শুধু গ্রেপ্তার বা দমনমূলক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীশিক্ষার প্রসার, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রান্তিক পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে পরিবার, সমাজ, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলিকেও সচেতনতার কাজে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য সরকার, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *