বরাক তরঙ্গ, ৮ আগস্ট : নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর ও সুমুকেদিমায় ফের ভারি বৃষ্টির জেরে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা এলেই এই দুই এলাকার নিচু বসতিগুলিতে জল ঢুকে পড়া এখন যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাগাল্যান্ড স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NSDMA)-র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রবল বৃষ্টিতে ডিমাপুরের একাধিক নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। প্লাবিত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে এসএম কলোনি, ভিলহুমে কলোনি, কে. সাচু কলোনি, রিভার বেল্ট কলোনি এবং নেইসাতুও কলোনি। একইভাবে, টানা এক রাতের ভারী বৃষ্টির পর চুমুকেদিমা শহরের বিস্তীর্ণ এলাকাও জলের তলায় চলে যায়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছে প্রশাসন। ডিমাপুরের একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (SDRF) সদস্যরা চারজন পড়ুয়াকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। তবে ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

শনিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। সাব-ডিভিশনাল অফিসার (সিভিল), জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আধিকারিক এবং ডোবাশিরারা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
ডিমাপুরের ভৌগোলিক অবস্থানও বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। শহরটি ধানসিরি ও চাথে নদীর কাছাকাছি অবস্থিত। দীর্ঘ সময় ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত হলে নদী দু’টির জলস্তর দ্রুত বেড়ে গিয়ে জল উপচে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সরকারি বন্যা-সংক্রান্ত বিভিন্ন মূল্যায়নেও শহরের নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার অন্যতম কারণ হিসেবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং উন্নয়নমূলক কাজের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ডিমাপুর ও আশপাশের এলাকায় আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হয়ে উঠেছে নদীর পাড় ভাঙন।



