জনগণনা : উন্নয়নের ভিত্তি, সুশাসনের অপরিহার্য হাতিয়ার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩ আগস্ট, সোমবার,
কটি দেশের উন্নয়ন, সুশাসন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তি নির্ভর করে নির্ভুল তথ্যের ওপর। সেই নির্ভুল তথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো জনগণনা। জনসংখ্যা গণনা শুধু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিচ্ছবি। জনগণনার মাধ্যমে সরকার জানতে পারে দেশের মোট জনসংখ্যা কত, কোথায় কত মানুষ বসবাস করেন, তাদের বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা, ভাষা, ধর্ম, পেশা এবং জীবনযাত্রার মান কেমন।

জনগণনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষের বাসস্থানের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ। কোথায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট রয়েছে, কোথায় শৌচাগার বা বিদ্যুতের সুবিধা নেই, কিংবা কোন এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজন—এসব তথ্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

একটি কার্যকর জনগণনা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত করে তোলে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে বাজেট ও নীতি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ও কল্যাণমূলক প্রকল্প যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও জনগণনার তথ্য অপরিহার্য।

এছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণনার গুরুত্ব আরও বেশি। নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি বা পুনর্বিন্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও জনগণনার তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল জনগণনা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকেও শক্তিশালী করে।

তবে জনগণনার সাফল্য নির্ভর করে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সঠিক তথ্য প্রদানের ওপর। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য শুধু পরিসংখ্যানকে বিকৃত করে না, উন্নয়ন পরিকল্পনাকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই জনগণনাকে কেবল সরকারি দায়িত্ব হিসেবে না দেখে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবেও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কী ভাবে নিজে ঘরে বসে জনগণনায় সামিল হবে জেনে নিন____
যাকে বলে ‘সেল্ফ এনিউমারেশন’।
প্রথমে জনগণনা সম্পর্কিত পোর্টাল https://se.census.gov.in-এ লগ–ইন করতে হবে।
এরপর নিজের তথ্য, অর্থাৎ তিনি কোন রাজ্যের বাসিন্দা, বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং ই–মেল আইডি জমা দেবেন। পরের ধাপে থাকছে পছন্দের ভাষা সিলেক্ট করার বিষয়। এগুলি ফিলআপ করার পরে আবেদনকারীর রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে ওটিপি যাবে। এরপরে ধাপে ধাপে দিতে হবে জেলা, পিন নম্বর, গ্রাম/শহর/এলাকার নাম। সম্পূর্ণ হলে একটি মানচিত্র দেখাবে। যেখানে নিজের বাড়ির অবস্থান দেখাতে পারবেন নাগরিক। এরপরে হাউস লিস্টিংয়ের তথ্য চাওয়া হবে। সেটি দেওয়ার পরে আসবে ‘প্রিভিউ স্ক্রিন’। যা থেকে আবেদনকারী দেখে নিতে পারবেন সব তথ্য ঠিকঠাক রয়েছে কি না। সব শেষে ‘ফাইনাল সাবমিট’ করতে হবে। অনলাইনে ফর্ম ফিলআপের পরে আবেদনকারীর কাছে একটি নির্দিষ্ট আইডি আসবে, যেটিকে সেভ করে রাখতে হবে অথবা ওই আইডি–র নম্বর লিখে রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *