১৪ জুন : দক্ষিণ দিল্লির তুঘলকাবাদ এক্সটেনশন এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, দিল্লি পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এটি ছিল সুপরিকল্পিত অপরাধ। এই ঘটনায় এক নাবালিকা-সহ মোট চারজনকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার ভোররাতে তুঘলকাবাদের একটি পাঁচতলা ভবনে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গোটা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তত আটজনকে এইমসে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় পঙ্কজ, সুশীলা দেবী এবং সোনিয়া কুমারীর। এখনও দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তবে তদন্তের মোড় ঘুরে যায় সিসিটিভি ফুটেজ হাতে আসার পর।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে মুখ ঢাকা এক মহিলাকে ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তিনি বেরিয়ে যাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজের সূত্র ধরে ১৭ বছরের এক নাবালিকাকে আটক করে পুলিশ। জেরায় সে স্বীকার করে যে, একটি মোটরবাইকে আগুন লাগিয়েছিল সে। তবে এই কাজ সে অন্যের নির্দেশে করেছে বলেও দাবি করে।
তদন্তে উঠে আসে সরিতা (২৭), নিরঞ্জন (৩৩) এবং রাজকুমার (২৭)-এর নাম। পুলিশ জানিয়েছে, ভবনের বাসিন্দা দীপকের সঙ্গে নিরঞ্জনের দীর্ঘদিনের আর্থিক ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। প্রতিশোধ নিতেই দীপকের বাইকে আগুন লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ, পেট্রল ও দেশলাই সরবরাহ করা হয়েছিল নাবালিকার হাতে, যার জেরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, সরিতা ও নাবালিকার সঙ্গে দুই অভিযুক্তের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। ঘটনার নেপথ্যে থাকা পুরো ষড়যন্ত্রের দিকটি খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।



