ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যকে বিদায়, নতুন ড্রেস কোড ভারতীয় সেনাবাহিনীতে, রয়েছে বহু নিষেধাজ্ঞা

Spread the news

১৪ জুন : ভারতীয় সেনাবাহিনীর পোশাকে বড় বদল। এ বার থেকে ফর্মাল কোনও অনুষ্ঠানে গলা বন্ধ কোট বা জ্যাকেট পরতে পারবেন সেনা জওয়ানরা। একই সঙ্গে প্যারেডের সময়ে সেনা অফিসারদের সঙ্গে তলোয়ার রাখার নিয়মটিকেও ঐচ্ছিক করা হয়েছে। এ ছাড়াও তুলে দেওয়া হয়েছে আনুষ্ঠানিক পাউচ বেল্ট বা কোমর বন্ধনীর ব্যবহার। এ প্রসঙ্গে ভারতীয় সেনা বাহিনীর তরফে ‘আর্মি ইউনিফর্মস-২০২৬’ নামের ১৭৪ পাতার একটি নতুন ম্যানুয়াল প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ম্যানুয়ালে ভারতীয় সেনার পোশাক সংক্রান্ত সমস্ত নতুন নিয়ম বিস্তারিত ভাবে দেওয়া রয়েছে।

পোশাকের এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত পদমর্যাদার কর্মীদের জন্য নতুন শীতকালীন পোশাকের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পোশাকে অ্যাঙ্গোলা শার্টের সঙ্গে একটি ব্যাটল জ্যাকেট এবং বেরেট টুপি থাকবে। এর পাশাপাশি এই প্রথমবার সেনা অফিসারদের ফর্মাল ড্রেস কোড হিসেবে ফুল হাতা শার্টের উপর গলা বন্ধ কোট বা জ্যাকেট পরার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই গলা বন্ধ কোট বা জ্যাকেট যে কোনও মার্জিত রঙের হতে পারে। অন্যদিক, মহিলা অফিসারদের জন্য মার্জিত রঙের শাড়ি অথবা কুর্তা-সালোয়ার এবং গোড়ালি ঝুলের প্যান্টের সঙ্গে দোপাট্টা পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্লিভলেস কুর্তা, পালাজ়ো বা সিগারেট প্যান্ট-সহ ক্যাজ়ুয়াল পোশাক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সেনা আধিকারিকদের একাংশ জানিয়েছেন, দীর্ঘ কয়েক বছর পরে সেনার পোশাক সংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা বা ম্যানুয়াল প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌম পরিচয় এবং জাতীয় ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখেই ঔপনিবেশিক নিয়মগুলি ধাপে ধাপে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে ভারতীয় সেনা বাহিনী থেকে।

সেনার পোশাকের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মেস ড্রেস নম্বর ৫ এবং ৬ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পাউচ বেল্ট বা চামড়ার কোমর বন্ধনী। এই ধরণের বেল্ট সাধারণত রাষ্ট্রপতি ভবন বা রাজ ভবনের কোনও অনুষ্ঠানে এবং প্রধানমন্ত্রী বা সেনা প্রধানদের বাস ভবনে আয়োজিত নৈশভোজে পরা হয়। তবে আর্মার্ড কোর, মেকানাইজ়ড ইনফ্যান্ট্রি বা আর্টিলারি রেজ়িমেন্ট-সহ কিছু বিশেষ বিভাগের কর্নেল পদমর্যাদার অফিসাররা ঐতিহ্যবাহী পাউচ বেল্ট ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়াও সেনার অভিধান থেকে ‘রয়্যাল’-সহ একাধিক প্রাচীন ব্রিটিশ শব্দগুলিও চিরতরে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই মূলত সশস্ত্র বাহিনীকে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্যই সেনার পোশাকে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

পোশাকের পাশাপাশি সেনা কর্মীদের সাজগোজ এবং চেহারার উপর কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় শরীরে ট্যাটু বা কোনও অংশে গয়না পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুজো বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন হাতের কব্জিতে কেবল একটিমাত্র সুতো বা ধাগা পরা যাবে। এমনকী হাতে কোনও ধরণের ব্রেসলেটও পরা যাবে না। ভারতীয় সেনার মধ্যে যাঁরা শিখ ধর্মাবলম্বী, তাঁদের বাদ দিয়ে বাকিদের ক্ষেত্রে কোনও ধর্মীয় প্রতীক প্রদর্শনের অনুমতি নেই।

এ ছাড়াও, পুরুষ কর্মীদের গোঁফের দৈর্ঘ্য ১২ সেন্টিমিটারের বেশি হওয়া চলবে না। ডিওডোরেন্ট বা পারফিউম ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও আফটার-শেভ লোশন ব্যবহার করা যাবে বলে জানানো হয়েছে নতুন ম্যানুয়ালে। মহিলা সেনা কর্মীদের ক্ষেত্রে লিপস্টিক, নেলপলিশ, টিপ বা নাকছাবি পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ছাড় রয়েছে সিঁদুর পরায়। তবে সিঁদুর এমন ভাবে পরা যেতে পারে যা বেরেট বা পিক ক্যাপ পরলে বাইরে থেকে দেখা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *