৩০ এপ্রিল: প্রবল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরু। বুধবার সন্ধ্যায় বাউরিং ও লেডি কার্জন মেডিকেল কলেজের একটি পুরোনো প্রাচীর ভেঙে পড়ে শিশু-সহ অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭ জন। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আচমকা ঝোড়ো হাওয়া ও প্রবল বর্ষণ শুরু হলে পথচারী ও হকাররা নিরাপত্তার জন্য মেডিকেল কলেজের একটি জরাজীর্ণ সীমানা প্রাচীরের পাশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সময় আচমকাই ধসে পড়ে কংক্রিটের দেওয়ালটি। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান বহু মানুষ। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃতদের মধ্যে কেরলের দুই বাসিন্দাও রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে বেঙ্গালুরুর রিচমন্ড টাউন, শান্তি নগর-সহ একাধিক এলাকায় কোমর সমান জল জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরেও জল ঢুকে পড়েছে। শহরের ভঙ্গুর পরিকাঠামো নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই দুর্ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে শহরের পুরোনো ও বিপজ্জনক বাড়ি ও প্রাচীর চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে পুর কর্তৃপক্ষ।



