‘সব রণতরী জ্বালিয়ে দেব’—আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

Spread the news

৩০ এপ্রিল : পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশই তীব্র হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা। পরমাণু চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে সরাসরি হুমকি দিয়ে ইরান রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-র এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে সমুদ্রেই ধ্বংস করে দেওয়া হবে মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী।

তেহরান সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার শুধু নিজেদের সামরিক শক্তির উপর নির্ভর করছে না ইরান। পশ্চিম এশিয়ায় তাদের মদতপুষ্ট সশস্ত্র জোট ‘রেজিসট্যান্স ফ্রন্ট’-কেও পূর্ণমাত্রায় ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি-র ওই আধিকারিক স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “ওয়াশিংটন যদি হামলার পরিকল্পনা করে, তবে রেজিসট্যান্স ফোর্সকে কাজে লাগাতে আমরা দ্বিধা করব না।” এতে সংঘাত যে সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেই আশঙ্কাই জোরদার হয়েছে।

এদিকে, দ্বিতীয় দফার সমঝোতা বৈঠক নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। এই দুই ইস্যু বাদ দিয়ে আলোচনা করতে চাইলে তবেই তারা রাজি। তবে ইরানের এই অবস্থান কার্যত নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওও ইঙ্গিত দিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

মার্কিন নৌবাহিনীকে নিশানা করে ইরানের আরও দাবি, সামান্য ভুল সিদ্ধান্তই বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এবং তখন সমুদ্রে থাকা মার্কিন রণতরীগুলিকে রক্ষা করা কঠিন হবে। একদিকে আমেরিকার চাপ, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি—এই দ্বন্দ্বে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *