৩০ এপ্রিল : মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে বুধবার রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজস্থানের আলওয়ার জেলার লক্ষ্মণগড় থানা এলাকার মৌজপুরের কাছে একটি চলন্ত গাড়িতে আচমকা আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করায় গাড়ির ভিতরে থাকা পাঁচজন জীবন্ত দগ্ধ হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতরা সকলেই একই পরিবারের সদস্য এবং মধ্যপ্রদেশের শেওপুর জেলার চেইনপুরা গ্রামের বাসিন্দা। তারা বৈষ্ণোদেবী মন্দির দর্শন করে ফিরছিলেন। মৃতদের মধ্যে এক নাবালিকা, তিনজন মহিলা এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। গাড়ির চালক বিনোদ কুমার মেহার অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লক্ষ্মণগড় থানার পুলিশ ও প্রশাসনিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এসএসবি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মীরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। আলওয়ারের পুলিশসুপার সুধীর চৌধুরী ও ডিএসপি কৈলাশ জিন্দাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রিয়াঙ্কা রঘুবংশী জানান, দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে গাড়িটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িতে আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যেহেতু গাড়িটি সিএনজি-চালিত ছিল, তাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং যাত্রীদের বেরিয়ে আসার সুযোগ মেলেনি বলে অনুমান।
পুলিশ আধিকারিকরা জানান, “ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা যায় আগুন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জওয়ানরা চালক বিনোদ মেহারকে উদ্ধার করে আলওয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠান। গাড়ি থেকে পাঁচজনের কঙ্কাল ও দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।”
চালক বিনোদকুমার মেহার কোনওমতে গাড়ি থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে এলেও তাঁর শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। প্রথমে তাঁকে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয় এবং পরে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকাজুড়ে।



