বরাক তরঙ্গ, ১২ এপ্রিল : প্রায় দু’ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর পানবাজার থানার থেকে ছেড়ে দেওয়া হল মধ্য গুয়াহাটি সমষ্টির অসম জাতীয় পরিষদের প্রার্থী কুংকি চৌধুরীকে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পানবাজার থানার পুলিশ তাঁকে সমন জারি করেছিল। নির্দেশ অনুযায়ী রবিবার সকাল ১১টায় থানায় হাজির হন তিনি।
থানা থেকে বেরিয়ে কুংকি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাকে ডাকার জন্য পুলিশের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি আমার বক্তব্য রেখেছি। সিস্টেমের উপর আমার আস্থা আছে, তারা সঠিকভাবে তদন্ত করবে বলেই আশা করছি। আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। অন্যদিকে, আমি অপরাধ শাখায় যে মামলা দায়ের করেছি, তা নিয়ে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—কেন এত দেরি হচ্ছে জানি না।”
এদিকে, কুংকি চৌধুরীর থানায় উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর সমর্থক ও নাগরিক সমাজের একাংশ থানার বাইরে ভিড় জমায়। গুয়াহাটি হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শান্তনু বরঠাকুর উপস্থিত থেকে বলেন, “এটি কোনও গুরুতর অভিযোগ নয়। প্রার্থীকে হয়রানির উদ্দেশ্যেই এই এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এমন কোনও মামলা নয়, যার জন্য বারবার থানায় ডাকা বা রাত ১২টায় হাজির হতে বলা প্রয়োজন। নির্বাচনী প্রচারের প্রভাবে ভীত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত আক্রোশবশত এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।”
উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের পর কুংকি চৌধুরীর সোশ্যাল মিডিয়া সেলের তিন সদস্যকে পানবাজার থানার পুলিশ নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৪/২৬ নম্বর মামলায় গ্রেফতার করেছিল। পরদিন তাঁদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। একই মামলায় এবার প্রার্থী কুংকি চৌধুরীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়।
ভোটের দিন পানবাজারের একটি ভোটকেন্দ্রে প্রথমে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে প্রবেশ করতে বাধা দেয়, যা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে তাঁকে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মামলা রুজু করা হয়েছে।



