বিধানসভায় সমরূপ নাগরিক সংহিতার সমর্থনে যুক্তি তুলে ধরলেন এনডিএ বিধায়করা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৭ মে : অসম বিধানসভায় ‘উমৈহতীয়া দেওয়ানী বিধি, অসম বিধেয়ক ২০২৬’ তথা সমরূপ নাগরিক সংহিতা নিয়ে তুমুল বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এই আবহেই এনডিএ-র বিধায়করা দাবি করেছেন, সদনে উত্থাপিত এই বিলের মূল লক্ষ্য মহিলাদের অধিকার সুরক্ষিত করা। শাসকদলের সদস্যদের বক্তব্য, প্রস্তাবিত আইন কোনও ধর্ম বা ধর্মীয় প্রথার বিরুদ্ধে নয়।

বিধায়করা বিলটিকে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, রাজ্যের জনজাতীয় সম্প্রদায়গুলিকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে, যাতে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী আইন ও রীতিনীতি অক্ষুণ্ণ থাকে।
বিজেপি বিধায়ক পীযূষ হাজরিকা বিলটির পক্ষে সর্বস্তরের সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই আইন কোনও ধর্ম বা ধর্মীয় রীতিনীতির বিরুদ্ধে নয়।”

উল্লেখ্য, সোমবার অসম সরকার বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ এবং লিভ-ইন সম্পর্ক বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের বিধান রেখে এই বিল বিধানসভায় উত্থাপন করে। তবে তফসিলি জনজাতিভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিলে একাধিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ রয়েছে। বহুবিবাহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং লিভ-ইন সম্পর্ক নিবন্ধন না করলে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা প্রশ্ন তোলেন, “যদি কোনও ব্যক্তি প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই চারবার পর্যন্ত বিয়ে করতে পারেন, তাহলে বর্তমান ব্যবস্থাকে কীভাবে ন্যায়সঙ্গত বলা যায়?” কোনও ধর্মের নাম উল্লেখ না করেই তিনি বলেন, “সব ধর্মের সমতার কথা বলা হলে এ ধরনের ব্যক্তিদের জেলে পাঠানো উচিত।”

বিলের বিরোধিতা করায় কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল মহিলাদের সমঅধিকার ও সম্মানের বিরোধিতা করছে। সংবিধানের কপি দেখিয়ে তিনি বলেন, “কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধী সবসময় বলে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংবিধান ধ্বংস করছে। অথচ সংবিধানের ভিতরে কী রয়েছে, তা তারা নিজেরাই জানে না।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, গোহত্যা নিষিদ্ধ করার যেকোনও উদ্যোগেরও বিরোধিতা করে কংগ্রেস।

বিজেপি বিধায়ক দিপ্লুরঞ্জন শর্মা ও বিলটির সমর্থনে বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে অসম গণ পরিষদের বিধায়ক পৃথ্বীরাজ রাভা বলেন, রাজ্যের পরিবর্তিত জনসংখ্যাগত পরিস্থিতির মোকাবিলায় এই বিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, “একাধিক বিয়ে করাই মূল সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে একাধিক বিবাহ থেকে বহু সন্তানের জন্ম হওয়া। এর ফলেই জনসংখ্যা বিস্ফোরণ এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটছে।” তাঁর মতে, এই বিল কার্যকর হলে মহিলারা আরও সুরক্ষা ও সুবিধা পাবেন।

এনডিএ-র শরিক দল বিপিএফ-এর বিধায়ক রবিরাম নার্জারি ও বিলটির সমর্থনে বলেন, জনজাতীয় সমাজের বহু প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আইনকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *