২৭ মে : পাটক্ষেতে গিয়ে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে একাধিক বস্তা এবং সুটকেস ভর্তি টাকা। ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের বাদুড়িয়ার। পুরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের গ্রেপ্তারির পর তাঁর দেখানো সূত্র ধরেই এবার পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার হলো বস্তাভর্তি কোটি কোটি টাকা। মঙ্গলবার দীপঙ্করের কম্পিউটার সেন্টার থেকে ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধারের পর (Cash recovery), বুধবার পুলিশ তাঁকে নিয়ে তদন্তের পুনঃনির্মাণে বের হলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।
সূত্রের খবর, দীপঙ্করকে জেরার সময় তিনি স্বীকার করেন যে, তাঁর বাড়ির পাশের একটি পাটক্ষেতে আরও টাকা মাটির নিচে পোঁতা রয়েছে। বুধবার সকালে স্থানীয় চাষিরা মাটির নিচে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করে থানায় খবর দেন। এরপর পুলিশ অভিযুক্ত পুরপ্রধানকে সঙ্গে নিয়ে সেই পাটক্ষেতে গিয়ে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে একাধিক বস্তা এবং সুটকেস ভর্তি টাকা। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু টাকাই নয়, ওই এলাকায় ট্রলিভর্তি সোনাও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরসভার বিভিন্ন কাজ ও নথিপত্রের জন্য চেয়ারম্যান সাধারণ মানুষের থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিতেন। ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তৃণমূল পুরপ্রধানের এমন দুর্নীতিতে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর তরজা। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল পাটক্ষেতে টাকার গাছ পুঁতেছিল। যদি ওইটুকু জায়গায় এত টাকা থাকতে পারে, তবে পুরো রাজ্য জুড়ে তারা কত টাকা কামিয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। পদত্যাগ করলেই দুর্নীতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।”
পুলিশ উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা বাজেয়াপ্ত করে তদন্তের পরিধি আরও বাড়াচ্ছে। অভিযুক্ত দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে হেপাজতের নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই দুর্নীতির সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।



