বরাক তরঙ্গ, ২৫ আগস্ট : খোয়াই জেলা হাসপাতাল রোড এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে এক মহিলাসহ পাঁচজন ভারতীয় ধর্মীয় প্রচারককে আটকে রাখার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, পাঁচজনই নদিয়ার মায়াপুর থেকে ধর্মীয় প্রচারের উদ্দেশ্যে খোয়াইয়ে এসেছিলেন। স্থানীয়ভাবে তাঁদের নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে পুলিশের সিভিল টিম ও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাঁদের আটকে রাখেন। সম্প্রতি ওই এলাকা থেকে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিক আটক হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ে। খবর পেয়ে সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির ওসি রঞ্জিত সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনকে উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের সঙ্গে থাকা আধার কার্ড ও অন্যান্য পরিচয়পত্র খুঁটিয়ে যাচাই করা হয়। যাচাইয়ের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়, তাঁরা সকলেই বৈধ ভারতীয় নাগরিক এবং ধর্মীয় প্রচারের উদ্দেশ্যেই খোয়াইয়ে এসেছিলেন।
বেআইনি কার্যকলাপ বা অনুপ্রবেশের কোনও প্রমাণ না মেলায় পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁদের সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হয়।
আটক হওয়া ধর্মীয় প্রচারকদের অভিযোগ, তাঁরা মায়াপুর থেকে এসে খোয়াই গার্লস স্কুলের পাশে একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, যথাযথভাবে কথা না শুনেই সন্দেহের ভিত্তিতে আটকে রাখা হয় এবং এর ফলে তাঁদের অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে ঘটনাস্থলেই আধারসহ অন্যান্য পরিচয়পত্র যাচাই করা সম্ভব ছিল। তা হলে অযথা হয়রানি এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হতো না। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। বৈধ ভারতীয় নাগরিক পাঁচজনকে কীভাবে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হলো, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। পুরো ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি।



